ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৯

প্রিন্ট

স্কুলের দপ্তরির কাণ্ড

দপ্তরির কাণ্ড
ছবি: নিজস্ব
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় একটি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী স্কুলের কাজ বাদ দিয়ে সপ্তাহে ৪দিন দুটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিুয়াচাঁদপুর গ্রামের এমপিওভুক্ত আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ওই কেরানীর নাম মতিয়ার রহমান। অভিযুক্ত কেরানী গাইদঘাট বিশ্বাস পাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। স্কুলের দৈনন্দিন কাজ বাদ দিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তাহে চারদিন দলিল লেখার কাজ করায় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিয়াচাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৯৯ সালে কুকিয়াচাঁদপুর বাজারের পাশে স্থাপিত হয়। স্কুলটি ২০১৪ সালে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে চারকক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়।

দীর্ঘদিন পর গত ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবার সারা বাংলাদেশ ব্যাপী ২৭৩০টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ঘোষণার মধ্যে চুয়াডাঙ্গাতে ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির ঘোষণা আসে। যার মধ্যে কুকিয়াচাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যায়লটিও স্থান পায়।

বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী মিলে স্কুলটিতে ১৭ জন কর্মরত রয়েছেন। যার মধ্যে অফিস সহকারী (কেরানী) হিসেবে কর্মরত আছেন মতিয়ার রহমান।

স্কুলের উপস্থিতি হাজিরা খাতাই নিয়মিত স্বাক্ষর থাকলেও মতিয়ার রহমানকে স্কুলের দাপ্তরিক কাজে পাননা কেউ। স্কুল খোলার পর পরই উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় নিজের স্বাক্ষর করে চলে যান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। সপ্তাহে চারদিন স্কুল ফাঁকি দিয়ে দলিল লেখেন মতিয়ার।

অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো দলিল লেখক হিসেবেও নিজেকে পরিচত করেছেন তিনি। সপ্তাহে রবি, সোম চুয়াডাঙ্গা সদর মঙ্গল ও বুধবার দুমুড়হুদা উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখার কাজ করেন মতিয়ার। তার দলিল লেখকের (লাইসেন্স নম্বর-১৭৩)।

অভিযোগের বিষয়ে লাইসেন্সধারী দলিল লেখক মতিয়ার রহমানকে স্কুল ছেড়ে দলিল লেখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বছর কয়েক ধরে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি। বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করার আশায় স্কুলের পরেই এই কাজ করতে হয় তাকে। তবে স্কুল ফাকির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

কেরানী মতিয়ারের স্কুল ফাকির বিষয়ে কুকিয়া চাদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হানিফ উদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেও শেষে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্কুলের কেরানী মতিয়ারকে এ বিষয়ে একাধীকবার সাবধান করা হলেও তিনি বিভিন্নভাবে দলিল লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, একজন স্কুলের শিক্ষক বা কর্মচারী সে যেই হোক স্কুল ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ করার সুযোগ নেই তার। স্কুলের দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে দলিল লেখার বিষয়ে এর আগেও কেরানী মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূবর্ক তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত