ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৯

প্রিন্ট

রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মার সুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে পাকা রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। প্রায় দেড় কিলোমিটার নির্মিত এ রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের ইটসহ কিছু কিছু জায়গায় বালির বদলে মাটি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসারের সাথে যোগসাজসে এসব করছে ঠিকাদার। অবিলম্বে রাস্তায় এসব নিন্মমানের ইট অপসারণ করে উন্নতমানের ইট দিয়ে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রসুলপুর গ্রামের আবু সাইদ, আনিসুর রহমান, আরিফা বেগম, হাফিজুল, তাসলিমাসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে বগুড়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাসিন এন্টারপ্রাইজ শুরু করে এ রাস্তার কাজ। কাজটি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অবধি এর ৫০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। এরই মধ্যে এই রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৌশলী অফিসারকে ম্যানেজ করে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের ইট ও কিছু কিছু জায়গায় বালির বদলে মাটি। এলাকাবাসীরা আরো অভিযোগ করেন, এই কাজে অনিয়মের বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয় তাদের। তাই ক্ষুব্ধ তারা। তাদের দাবি নিন্মমানের ইট অপসারণ করে উন্নতমানের ইট দিয়ে অবিলম্বে নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

রসুলপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকলেছুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এই রাস্তা নির্মাণে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম। আমি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা আমার কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছে মত ৩নং ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছে।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও পাঁচবিবি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। এই রাস্তায় অনিয়ম করেছে ঠিকাদার। আমরা আগেও এই ঠিকাদারের এমন অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ঠিকাদারের এসব অনিয়মের দায় আমরা নিব না।

স্থানীয় আয়মা রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল আলম বেনু বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, ঠিকাদাররা বাড়তি লাভ করার জন্য নিন্মমানের কাজ করছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। ঠিকাদারের কাছ থেকে ইঞ্জিনিয়ারের টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব আমার কিছু জানা নেই। তবে আমি চাই এই কাজটি ভালোভাবে হোক।

রাস্তায় এসব নিন্মমানের ইট অপসারণ করে উন্নতমানের ইট দিয়ে নতুন করে রাস্তা নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত