ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ১২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬:০০

প্রিন্ট

সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান ছিনিয়ে নিয়ে নির্যাতন

সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান ছিনিয়ে নিয়ে নির্যাতন
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার পর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আবু কালাম পাঁচবিবি থানায় ও স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম কড়িয়া ‘সিমান্ত শিক্ষা ক্লাব’ থেকে একই এলাকার আবু কালাম প্রতি মাসে হাজারে এক’শ টাকা সুদে ৭ হাজার টাকা লোন নেন। ৯ মাস পর সুদের ২ হাজার টাকা ও লোনের ৭ হাজার টাকা সমিতির সদস্য কামরুজ্জামানের কাছে ফেরত দেন। এসময় দরিদ্র কালাম ক্লাবের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, আমার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় বাড়তি সুদের টাকা আর দিতে পারব না, আমাকে মাফ করে দেন। এতে নারাজ হয়ে সুদে-আসলে ৩০ হাজার টাকা ফেরৎ দিতে হবে মর্মে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কড়িয়া বাজারে ক্লাবের সদস্য একরামুল, আবু তালহা ও ফারাজুল কালামকে মারপিট করে ভ্যানটি ছিনিয়ে নেয়।

এলাকার কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, ক্লাবের আড়ালে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অতিরিক্ত সুদের মাধ্যমে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সুদের টাকা যারাই ফেরৎ দিতে পারে না তাদের ধরে এনে আটকে রেখে মারধর করে ও টাকা আদায় করে ক্লাবের সদস্যরা।

এ বিষয়য়ে ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর বলেন, আমি শুধু ক্লাবের সভাপতি লোন দেয়া-নেয়া ব্যাপারে কিছুই জানি না। ছিনতাই করা ভ্যানটি আপনার বাড়িতে কেন এমন প্রশ্নে তিঁনি বলেন, আমার দুই ছেলে ওই ক্লাবের সদস্য। ক্লাব থেকে যে লোন দেওয়া হয় তা নিবন্ধন প্রাপ্ত কি না এ বিষয়ে সে বৈধ কোন কাগজ-পত্র দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ক্লাবের সদস্যকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা হুমকী প্রদর্শন করে বলেন, লোন গ্রহীতা কালামের মার হয়নি আরো হবে। অভিযোগ পেয়েই বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া ভ্যান উদ্ধার করে ভুক্তভোগী কালামকে বুঝিয়ে দেয়।

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টা আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। আজকেই ওই ক্লাবের সভাপতি/সম্পাদককে চিঠি দিয়ে জানতে চাইব কিসের উপর ভিত্তি করে তারা অবৈধ সুদের ব্যবসা করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত