ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৪৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৮

প্রিন্ট

যেসব কারণে ছিটকে গেলেন নাছির

যেসব কারণে ছিটকে গেলেন নাছির

Evaly

জার্নাল ডেস্ক

আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আ জ ম নাছির উদ্দীন বেশকিছু কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

কারণগুলো হলো- চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার মঞ্চ থেকে প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকে নামিয়ে দেয়া, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল জিইয়ে রাখা, অর্ধশতাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কোনোটিরই ঠিকঠাকভাবে দায়িত্ব পালন না করা, নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব ও স্নায়ুদ্বন্দ্ব, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়া, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি এবং দল থেকে সরকারকে আলাদা করা।

এরকমই কিছু কারণে হেভিওয়েট প্রার্থী, ওয়ার্ডে প্রভাব, নিজস্ব বলয় সৃষ্টি, ওপরমহলের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকার পরও নৌকার মনোনয়ন পাননি বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

গত কিছুদিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল, নাছিরের হাতেই কি থাকবে নৌকার হাল, নাকি নতুন কেউ? এমতাবস্থায় শেষ পর্যন্ত নতুনেই ভরসা খুঁজল ক্ষমতাসীন দলটি। নাছিরের জায়গায় দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলো মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটির সর্বশেষ নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির এম মনজুর আলমকে হারান আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনিসহ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২০ জন। তাদের মধ্য থেকে ১৬ জনকে শনিবারের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে ডাকা হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা সবাই মিলে একক প্রার্থী নির্বাচন করলে আমাদের আর বসতেই হতো না।’ এ সময় বোর্ডে থাকা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা বিউটি অব ডেমোক্রেসি।’

তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা সাংগঠনিক দুর্বলতারও একটি লক্ষণ।’ চট্টগ্রামের প্রতি তার দুর্বলতার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে নতুন প্রার্থীকে স্বাগত জানিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইলে তা এড়িয়ে গিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা ভালো মনে করেছেন, যাকে যোগ্য মনে করেছেন, তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। রেজাউল করিম চৌধুরী তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। আমাদের সবাইকে এক হয়ে বিজয়ী করতে হবে নৌকার এই প্রার্থীকে। প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা আমিও পেয়েছি। তৃণমূল থেকে আমাকেও তুলে এনে মেয়র করেছেন তিনি। দিয়েছেন নগরের সাধারণ সম্পাদকের পদও।

অন্যদিকে মনোনয়ন পেয়ে সবাইকে চমকে দেয়া নগরে নৌকার নতুন মাঝি রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আস্থা রাখায় আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে কাজ করে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামকে আমি একটি পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দলের মাঝে ফেরাতে চাই ঐক্যও।

কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ১৯ ফেব্রুয়ারি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থনের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ৪০৫ জন। কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় আবার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনে মোট ওয়ার্ড ৪১ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১৪টি।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত