ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:১২

প্রিন্ট

পাহাড় কাটায় ব্যস্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন!

পাহাড় কাটায় ব্যস্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন!
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথম সমাবর্তনে মাঠ প্রস্তুত করার জন্যে পাহাড় কাটার পর এবার শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্টহাউস নামের ভবনের জন্য পাহাড় কাটা শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর আগেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কেটে সেই মাটি দিয়ে সমাবর্তনের মাঠ প্রস্তুত ও সড়ক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশে নির্মিত শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্টহাউসের উত্তর পাশের পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড় কাটা মাটি ট্রাকে করে নির্মিত ভবনের নিচু জায়গায় দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের অধিকাংশ অংশ কেটে ফেলায় যে কোনো সময় পাহাড়ধ্বস হতে পারে বলে আশঙ্কা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপরিকল্পিত এমন উন্নয়নে একের পর এক পাহাড় সাবাড় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের ফলে ধ্বংস করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দায়িত্ব নিয়ে পাহাড় কাটা থেকে বিরত না থাকে তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সে দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেব।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনকে সামনে রেখে মাঠের উত্তর পাশের পাহাড় কাটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারও আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের একটি অংশ মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়। সেই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়ক ও ডরমিটরির নিচু স্থান ভরাট করেছে প্রশাসন।

এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় পাহাড় কাটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পাহাড় কাটায় জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে সতর্কতা নোটিশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ২০১০-এর ৬-এর 'খ' ধারায় বলা হয়েছে 'কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।' আইনে পাহাড় বা টিলা কাটার জন্য ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা মাত্র জেনেছি। আমাদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম শহিদুল হাসানের দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বলেন, ভবনের মূল অংশে মাটির প্রয়োজন হওয়ায় নিচের অংশ কাটা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, পাহাড় কাটার সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছি। তারা জানিয়েছে ক্যাম্পাসের কোথাও পাহাড় কাটা হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত