ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৩৪

প্রিন্ট

এক ধাক্কায় লাখ টাকা!

এক ধাক্কায় লাখ টাকা!
আহমেদ ইসমাম

রাজধানীতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে অপরাধীদের কার্যক্রম। বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট আর রেলস্টেশনে, চলতি পথে, মার্কেট-বাজারে অজ্ঞান পার্টি, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টির সীমাহীন দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ মানুষ। এরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করছে সাধারণ মানুষের সাথে।

কখনো অচেতন করে, আবার কখনো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এরা লুটে নিচ্ছে টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান সম্পদ। শুধু টাকা-পয়সা বা মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে এরা ক্ষান্ত হচ্ছে না, সামান্য বাধা পেলেই কারো প্রাণ নিতেও দ্বিধা করছে না। অজ্ঞানপার্টি-ছিনতাইকারীর পাশাপাশি এবার যুক্ত হয়েছে ধাক্কা পার্টি। দিনে দুপুরে রাজধানীর রাজপথেই এক ধাক্কায় লুফে নেন লাখ টাকার মালপত্র। এর জন্য কাজ করেন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।

রাজধানীকে কাপড়ের ব্যবসা করেন আবু বক্কর। নিজের কোনো গাড়ি না থাকায় ভাড়া গাড়ি দিয়েই মালামাল পরিবহন করেন। কখনো ভ্যান আবার কখনো রিক্সায় করে কয়েক লাখ টাকার ব্যবসার মালপত্র আনা নেওয়া করেন।

বরাবরের মত রাজধানী ইসলামপুর থেকে নতুন কাপড় কিনে দুটি বস্তায় করে একটি ভাড়া করা রিক্সায় উঠে পরেন তিনি। রিক্সাটি যানজট ঠেলে মতিঝিল পার হওয়ার সাথে চালক নেমে পরেন। সে এমন একটা ভাব করে রিক্সাটির কোনো সমস্যা হয়েছে। এর পরে সে পায়ে হেঁটেই আগাতে থাকেন।

আবু বক্করকে বলেন, ‌পারলে একটু নামেন রিক্সাটা ঠিক করতে হবে। আবু বক্করও সরল মনে তার সাথে সাথে হাঁটা দেন। একটু এগিয়ে রাজারবাগের পশ্চিম দিকের মোড়ে যেতেই আচমকা এক লোক এসে ধাক্কা দেন। ধাক্কা লাগার কারণে সেই লোকের হাতে থাকা মোবাইলটি পরে যায়। মোবাইলটি পরে যাওয়ায় সেও সৌজন্যতার খাতিরে দুঃখ প্রকাশ করেন। পুরো বিষয়টিতে সময় লাগে ১০ সেকেন্ডের কম সময়। এর পরে সামনে তাকাতেই দেখে তার রিক্সাটি আর নেই। এর পরে অনেক খুঁজাখুঁজির পরেও আর সে আর রিক্সাটি পায়নি।

পরে সিসি ফুটেজে দেখা যায়, ধাক্কা দেওয়া ব্যক্তিসহ তারা একটি অপরাধী চক্র। পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক। আবু বক্করকে ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথেই রিক্সার চালক রাস্তাটি পার হয়ে যেদিক দিয়ে গিয়েছিলেন ঠিক সেদিকেই আবার ফেরা শুরু করেন। যাতে রিক্সার যাত্রী বুঝতে না পারেন কোন দিকে গেল। সাধারণত যাত্রীরা সামনের দিকেই খুঁজে থাকেন। যার ফলে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেও রিক্সা চালককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ী আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, এক পলকেই আমার ব্যবসার সব মালপত্র উধাও হয়ে যায়। আমি অনেক খুঁজাখুঁজির পরে আর খুঁজে পাই নাই। সেখানে আমার প্রায় এক লাখ টাকার নতুন কাপড় ছিল। এই টাকাটাই আমার ব্যবসার মূলধন। আমি ব্যাংকে লোন করে এই ব্যবসায় করছিলাম। এই কাপড় হারিয়ে এখন পথে বসে গেছি। সূত্র জানায়, এই নাটকে নেতৃত্ব দেন ১০ জনের একটি ভয়ংকর চক্র। তারা এই ধরনের ব্যবসায়ীদের জালে ফেলতে সারাদিন ওঁত পেতে থাকেন। চক্রটি এক সাথে ঘুরলেও এইসব জায়গায় এই কাজ করে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের সুবিধাজনক এলাকায় না পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত