ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২০, ১৬:৩৯

প্রিন্ট

ভেজানো সুপারিতে কেমিক্যাল মিশ্রণ, হুমকির মুখে পরিবেশ

ভেজানো সুপারিতে কেমিক্যাল মিশ্রণ, হুমকির মুখে পরিবেশ

Evaly

রায়পুর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাশয়গুলো সরকারি খালে দুই দুই মাস থেকে ভেজানো হয়েছে পাকা সুপারি। ভিজা সুপারি দূর্গন্ধে ব্যাপকভাবে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ আর ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রাণী।

অন্যদিকে বেশি লাভের আশায় পচা সুপারিতে রং ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব সুপারি থেকে মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ি করেছেন সচেতন মহল ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধান অর্থকরী ফসল সুপারি। উপজেলার উৎপাদিত সুপারির বেশির ভাগই উৎপাদন হয় এ উপজেলায়। চলতি বছরেও উপজেলায় সুপারির যে ফলন উৎপাদন হয়েছে তার বাজার মূল্য প্রায় ২শ’ ৫০ কোটি টাকা। এখানকার উৎপাদিত সুপারির বেশির ভাগই খাল, ডোবা-পুকুর, নালায় ভিজেয়ে রেখে পরে বিক্রী করেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্রে জানা যায়, সুপারি পাকা হাউসে ভেজানোর নিয়ম থাকলেও বেশী লাভের আশায় তা মানছেননা কেউ। এদিকে স্থানীয় চরমোহনা, বামনী, চরবংশী, কেরোয়া, চরপাতা, উত্তর দক্ষিণ চর আবাবিল হায়দরগঞ্জ, উদমারা, সোনাপুর চররুহিতা ও দালাল বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সুপারির পাকা রং ধরে রাখতে ভিজা সুপারিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং ও হাইড্রোজ। ফলে ক্যান্সারসহ মানবদেহে বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির অভাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন এসব ব্যবসায়ীরা।

রায়পুরে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করা সর্তে কয়েকজন বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে এই রং মিশিয়ে থাকি। সারা বাংলাদেশে সুপাররিগুলোতে রং মিশিয়ে মোকামে বিক্রি করতে দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে আমরা রং না মিশালে আমাদের সুপারি কিনতে চাইনা মোকাম এবং কম দামে বিক্রি করতে হয়। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি, রায়পুরে যারা কেমিক্যাল বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কখনও ব্যবস্থা নেয়না, তারা বিক্রি না করলে আমরা সুপারিতে রং দিবোনা।

সরেজমিনে গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর-ডোবা নালায় পচানো হচ্ছে সুপারি। চলতি বছর ভেজা সুপারির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে উপজেলার অন্তত শতাধিক ব্যবসায়ী। তবে কিছু কিছু জায়গায় গিয়ে দেখা যায় ভেজা সুপারি বিক্রিকালে মেশানো হচ্ছে রং ও বিষাক্ত কেমিক্যাল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় হাউজ না করে উম্মুক্ত জলাশয়ে সুপারি ভেজানোর ফলে পানি ব্যবহার করতে পারছেনা তারা। পাশাপািশ পঁচা সুপারির দুর্গন্ধে আশ পাশে চলাচল করতে দূর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে মানুষ। ব্যবসায়ীরা পাকা সুপারির রং ধরে রাখতে সুপারিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সুপারিতে রং মেশানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ভালো দামের আশায় ও জেলার বাইরে বাজারজাত করতে রং মেশানো হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো: বাহারুল আলম জানান, সুপারির রং পরিবর্তন বা সুপারি সুস্বাদু করার জন্য যে সব রং বা কেমিক্যাল দেওয়া হচ্ছে তাতে মানবদেহে বিভিন্ন রোগসহ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পরিবেশ ইউএস (পরিবেশবাদী সংগঠন) বাংলাদেশ সভাপতি অহিদুল হক বাবলু জানান, সুপারি প্রধান এলাকা লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সুপারি উম্মুক্ত জলাশয় ও সরকারি খালে ভিজিয়ে পচানোর ফলে জলজ উদ্ভিত ধংস হয়ে অক্সিজেন কমে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। প্রশাসন সচেতন হলে এ অবৈধ কাজ বন্ধ করা সম্ভব বলে জানান পরিবেশবাদী সংগঠনের এ নেতা।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত