ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৬

প্রিন্ট

৬ ঘণ্টায় চালের বস্তায় বেড়েছে ৪০০ টাকা!

৬ ঘণ্টায় চালের বস্তায় বেড়েছে ৪০০ টাকা!
প্রতীকী ছবি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ এমন ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধায়। সরকার যখন দেশের করোনাভাইরাস মোকাবেলা নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখনি গাইবান্ধায় হঠাৎ বেড়েছে চালের দাম। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৫০ কেজি চালের বস্তায় বেড়েছে ২শ টাকা থেকে ৫শ টাকা। রাত ৮টার পরে আর টাকা দিয়েও মিলছে না চালেন বস্তা।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সকালের থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় বস্তা প্রতি বেরেছে ৪শ থেকে ৫শ টাকা। তবে প্রশাসন জানালেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা।

সরেজমিনে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের দেখা যায়, সাধারণ মানুষ চাল কিনতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পাইকাররা চালের দাম বেশি নিচ্ছেন বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করছে।

বোনারপাড়া বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান জানান, সকালে ৫০ কেজি চালের বস্তার দাম ছিল ১৬৩০ টাকা। সন্ধ্যায় সেই চাল ২০০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। টাকা দিয়ে মিলছে বিআর-২৮ ও গাঞ্জিয়া ধানের চাল। করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের মানুষ ভয়ে আছে বলেই চাল ব্যবস্যায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করেছে।

স্কুলশিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, চালের বাজারে এসে মাথা ঘুরে যাচ্ছে। হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের পরিবার সমস্যায় পরবে। আমাদের তো সবসময় কিনে খেতে হয়। করোনাভাইরাসে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, উল্টো চাল ব্যবস্যায়ীরা সিন্ডেকেট করেছে। এভাবে যদি চালের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে মানুষদের অনাহারে দিন কাটাতে হবে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের জানান, চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সারাদিন দিনমজুর হিসেবে যা টাকা ইনকাম হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো অনেক কষ্টকর। তারপরও যদি এভাবে চালের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে আগামীতে জীবন ধারণ করা অনেক কষ্ট করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার যদি দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, আগামীতে আমাদের মতো দিনমজুরদের ভাগ্যে দুর্দশা নেমে আসবে। দেখা যাবে কোরনাভাইরাসে নয়, বরং না খেয়ে মরতে হবে।

সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকার যুবক আব্দুল বাকি জানান, হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ বিপদে পড়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যদি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষদের বিপদে ফেলবে। তাই সরকারকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দাম বাড়ানোর বিষয়ে বোনারপাড়া বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান, আড়ৎ থেকে চাল বেশি দামে কিনতে হয়েছে, সেজন্য চাল বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা যদি কম দামে চাল কিনতাম, তাহলে কম দামে বিক্রি করতাম।

আরেক ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, বড় বড় চালের ব্যবস্যায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার ফলে দুপুর থেকে বিকালের মধ্যেই চালের বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, চালের বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি চাল মজুদ রাখার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত