ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ২০:১০

প্রিন্ট

যানবাহনে গাদাগাদি করেই রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

যানবাহনে গাদাগাদি করেই রাজধানী ছাড়ছে মানুষ
আহমেদ ইসমাম

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক নিয়ে বাসে করে গাদাগাদি করেই ঘরে ফিরছে মানুষ। রাজধানীর অন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা দলে দলে জেলা শহরে ফিরছে। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও তাদের মধ্যে সচেতনতামূলক কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাসগুলোতে বসে কিংবা দাড়িয়ে মুখে একটি মাস্ক লাগিয়ে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ।

বুধবার রাজধানীর বাসটার্মিনালগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এই চিত্র ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। যাত্রীরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের গাড়ির জন্য। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় গাড়ির ট্রিপের সংখ্যাও বড়িয়েছে কয়েকটি কোম্পানি। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে এই সুযোগে বেশি ভাড়া রাখার অভিযোগ উঠেছে।

যার জন্য আতঙ্কে এই বাড়ি ফেরা সেই বিষয়েই যেন কারো মাথা ব্যথা নেই। এই ভাইরাস থেকে বাঁচার প্রধান কৌশল জনসমাগম থেকে দূরে থাকা। একজন থেকে আরেকজনের দুরত্ব অন্তত তিন মিটার রাখা। এই জনস্রোতে এ সব নিয়ম কানুনের কিছুই মানা হচ্ছে না। একজন আরেকজনের উপর গাদাগাদি করেই ছুটে চলছেন।

রংপুর যাওয়ার জন্য গাবতলী বাসটার্মিসালে অপেক্ষা করছিলেন তাসলিমা আক্তার। তিনি জানান, সব কিছু বন্ধ করে দেবে এই ভয়ে চলে যাচ্ছি। ঢাকায় একটি মেসে থেকে চাকরি করতাম। মেসে কেউ নেই। যে যার মত চলে গিয়েছে। এখন একা থাকা সম্ভব নয়। তাই গ্রামে চলে যাচ্ছি।

এই গাদাগাদি করে যাওয়া বাসগুলোতে নেই কোনো সতর্কতা। জীবানুনাশক ছিটানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে শ্যামলী পরিবহনের চালক জানান, সেই সুযোগ আর পেলাম কোথায়। আসার সাথে সাথেই যাত্রী দিয়ে ভরে গেল। আদতে কোনো বাসেই কোনো ধরনের সতর্কতামূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীতে চলাচল করা গণপরিবহনগুলোতেও। এখানোও ছিল না কোনো ধরনের সতর্কতা। বাসের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা গাদাগদি করে বাসে উঠছে। মানছে না কোনো ধরনের নিয়ম কানুন।

পরিবহন শ্রমিক নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে জীবানুনাশক ছিটিয়ে নিচ্ছি। এ ব্যাপারে সবার আগে আমরা সচেতন না হলে আমরাই তো সবার আগে আক্রান্ত হব।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জীবানুনাশক ছিটানোসহ সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া আছে। আমাদের চালক ও হেলপাররা তা মেনে চলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ি আসার সাথে সাথে যাত্রীরা হুড়াহুড়ি করে উঠে পরছে। কাল থেকে যেহেতু গাড়ি বন্ধ তাই এই সমস্যা আর হবে না।

নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি রাজধানী ছাড়ছেন। তাদের বেশির ভাগ বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করেন। এছাড়াও রিকশাচালকরা যাত্রী না পাওয়ার আশংকায় ঢাকা ছাড়ছেন। অনেকেই থাকার জায়গা না পেয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত