কুষ্টিয়ায় সেই এসপির ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি!

প্রকাশ | ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:১০

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সুভাস চন্দ্র সাহা। ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার। তিনি একসময় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই আলোচিত পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রীর নামে কুষ্টিয়া শহরে রয়েছে বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ। শহরের চৌড়হাস এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর তার একটি দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা বাড়ি এবং আরও পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ সম্পত্তি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এ সম্পত্তির মূল্য কমপক্ষে চার কোটি টাকা। এতদিন গোপন থাকলেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়েরের পর বিষয়টি সামনে চলে আসে।

সুভাস চন্দ্র সাহা কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন ২০১০ সালে। তিনি এ শহরে প্রায় তিন বছর চাকরি করেন। বেশ কয়েক মাস পুলিশ সুপারের দায়িত্বেও ছিলেন। আর এ সময়ই ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন বলে অভিযোগ। শহরের চৌড়হাস এলাকার জগতি মৌজায় সিকো নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুভাস চন্দ্র সাহা জমিসহ পাঁচতলা বাড়ি, ১৬টি দোকান ও পাঁচ কাঠা জমি ক্রয় করেন। পাঁচতলা এ বাড়িতে আছে ১৪টি ফ্ল্যাট। সব মিলিয়ে এ সম্পদের দাম কমপক্ষে চার কোটি টাকারও বেশি। এ সম্পদ পরে তার স্ত্রী রীনা সাহার নামে দলিল করেন। বর্তমানে দোকান ও বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির সামনে চেয়ার পেতে সব সময় পাহারায় থাকে স্থানীয় কয়েকজন ক্যাডার। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাড়িটির কেয়ারটেকার মজিম উদ্দিন। তবে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন বাড়ির মালিক পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা।

সূত্র জানায়, চৌড়হাস এলাকার সিকুসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এসপি সুভাসের চরম দহরম মহরম ছিল। তাদের যোগসাজশে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। সিকুর সঙ্গে অর্থ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বাড়ি ও জায়গার দখল ঠিক রাখতে শহরের সে সময়কার প্রভাবশালী নেতা মোমিনুর রহমান মোমিজের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

দুদকের তদন্ত শুরুর পর সম্পদ গোপন করতে এসপি সুভাস তড়িঘড়ি করে ওই বাড়িটি কুষ্টিয়ার স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে বায়না দেখিয়েছেন বলে রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়।

এদিকে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থের সন্ধান পাওয়ায় মঙ্গলবার দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করলে কৃষ্টিয়ার এই বাড়ি ও জমির বিষয়টি সবার নজরে আসে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু জানান, দুদক ওই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগে মামলা করেছে। তবে ওই সম্পদের বাইরে কুষ্টিয়ার এই বিপুল টাকার সম্পত্তির মতো তার আরও সম্পদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে কোনো দুর্নীতিবাজ ছাড়া না পেয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।