ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ১৭:৫৮

প্রিন্ট

তিতুমীর কলেজে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

তিতুমীর কলেজে দুই পক্ষের সংঘর্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বে করোনার মহামারী, দেশেও আতঙ্ক। আক্রান্ত অর্ধলক্ষেরও বেশি মানুষ। আর তাই সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু সংস্থাও। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার। তারা গত দুইমাস ধরে ক্যাম্প চালিয়ে আসছিলো রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে। কিন্তু মঙ্গলবার উভয়পক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে তিতুমীর কলেজের ৪র্থ শ্রেণির কর্মকর্তাদের সাথে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীদের। সর্বশেষ রাত ২টায় হামলার পর রাস্তায় এসে স্লোগান দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এ ঘটনায় তিতুমীর কলেজে প্রশাসন থেকে সাধারণ ডায়েরির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারও। এর মধ্যে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগে তিতুমীর কলেজের কর্মচারীরা জানায়, আমাদের ওপর তিনবার হামলা চালানো হয়েছে। রাত ১০টায়, ১২টায় ও রাত ২টায়।

ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে জানতে চাইলে তারা জানান, রোববার ছেলেদের থাকার জায়গায় একজন মেয়েকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশ করতেই করোনা বুথের দু’জন ছেলে ও একজন মেয়েকে অসৌজন্যমূলকভাবে থাকতে দেখে তিতুমীর কলেজের আমরা প্রতিবাদ করি। এরপর তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ সোমবার রাতে ১০টার দিকে আমাদের দুইজন কর্মীকে তারা কলেজ গেইটে মারধর করে। এক পর্যায়ে চড়াও হয় জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা তিতুমীর কলেজের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে বের করে দেয়া বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুই সংবাদকর্মীও। তারা জানান, প্রথমে আমরা তিতুমীর কলেজ কর্মচারীদের কাছে বিস্তারিত জেনে অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেনে সাথে কথা বলে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে কথা বলতে যাই। এসময় তারা বরকত মিলনায়তে থাকেন শুনে আমরা ডাকাডাকি করে কারো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ভেতরে ঢুকি। এসময় হঠাৎই প্রায় ৫০জনের মতো লোক এসে আমাদের ধাক্কা এবং কিল ঘুষি দিতে থাকে। তাদেরকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিলেও তারা বলেন, তোরা কিসের সংবাদিক, তোদের আসতে বলছে কে, দেইখা নিমু। সবাইকে পিটামু।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ মো. আশরাফ হোসেন বলেন, যতটুকু শুনেছি আমাদের স্টাফদের অনেক পেটানো হয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করে আমরা করণীয় ঠিক করবো। তাছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অতি নিন্দনীয়। আমরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিতুমীর কলেজের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ, তিতুমীর কলেজ নাট্যদল, শুদ্ধস্বরসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো।

এদিকে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বেচ্ছাসেবীরা অভিযোগ করে বলেন, কলেজের কর্মচারীরা অনেকদিন ধরে তাদের সাথে অসহযোগীতামূলক আচরণ করছে। তাদের মনোভাব এমন, যেন এই কলেজ প্রাঙ্গন থেকে করোনা টেস্টের জন্য স্থাপিত বুথগুলো উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানায়, কর্মচারীদের হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। যাদের পরবর্তীতে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের আহ্বায়ক সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বলেন, তিতুমীর কলেজে আমরা একটা ক্যাম্প চালিয়ে আসছি এবং ট্রেনিং সেন্টার গত দুইমাস ধরে। কোভিড-১৯ রোগীদের যারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে আমরা তাদের ট্রেনিং দিয়ে থাকি। এখানে আমাদের প্রায় ১৭৫ জনের মতো স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করেন। সেচ্ছাসেবীরা। এখন এখানকার যারা বসবাস করেন (তিতুমীরের) ৪র্থ শ্রেণির কর্মকর্তা তারা সব সময়ই একটু ঝামেলা করতো। তারা চাইতো না যে, এখানে ক্যাম্প থাকুক। কারণ তাদের আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিলো। তাই তারা নানাভাবে মেয়েদেরকে ইভটিজিং করতো। তারপর নামাজ পড়তে যেতে দিতো না, মাঝে মাঝে পানির লাইন বন্ধ করে দিতো। এরকম সমস্যা চালিয়ে আসছিলো, আমরা অধ্যক্ষ স্যারের সাথে কথা বলেছি। উনি বলতেন যে, ব্যাপারটা দেখি। গতকালকে (মঙ্গলবার) ওরা আমাদের মেয়েদের ওপর হামলা করে। মেয়েদের সাথে অশোভন আচারণ করে। দশ জনের মোবাইল নিয়ে গেছে। ছেলেদেরকে রড দিয়ে মেরেছে।

এছাড়া একজনের হাতও ভেঙে গেছে এ ঘটনায়। আমাদের পক্ষের বেশিরভাগই মেয়ে। তারা মারধর করতে পারে না। ছেলে কর্মীও যারা আছে তারা মারামারি করার মতো না।

এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ঘটেছে, হামলা করেছে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের কর্মীরা। বিষয়টি সত্য কিনা জানতে চাইলে সাবরিনা আরিফ বলেন, তারা (সংবাদকর্মীরা) আমাদের জানিয়ে যাননি। তাই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে যান তাহলে আমাদের জানিয়ে যাবে। হঠাৎ করেই যাবে না। আমাকে বলে যদি কেউ দশবারও আসে তাতে সমস্যা নেই। না বলে তো কেউ হুটহাট করে ঢুকে যেতে পারে না। ওখানে মেয়েরা থাকে।

সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে সাবরিনা আরিফ বলেন, আমরা নিরাপত্তা চাই, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকতে পারে। আমাদের কার্যক্রম এখন বন্ধ করে রাখতে হয়েছে যার ফলে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা গতকাল বনাণী থানায় গিয়েছিলাম এবং ওনারা বলেছেন আজ (বুধবার) আমাদের মামলা নিবেন। এখন দেখা যাক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতোটা কি করে। আমরা সুষ্টু তদন্ত চাই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা এখনও কোনো পক্ষের অভিযোগ পাইনি। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শুনিনি। তবে, পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best