ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ১৬:৪২

প্রিন্ট

জিপিএ-৫ পেয়েও তপনের লেখাপড়া অনিশ্চিত

জিপিএ-৫ পেয়েও তপনের লেখাপড়া অনিশ্চিত
মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

তপন দাসের ভূমিহীন বাবা হরেন দাস একসময়ে ছিলেন মোটরগাড়ি চালক। কিন্ত বয়সের ভার আর রোগাক্রান্ত হয়ে হারাতে বসেছেন দৃষ্টিশক্তি। ফলে এখন আর গাড়ি চালাতে পারেন না। মা সুমিত্রা দাস পরের বাসায় কাজ করেন। সাংসারিক এমন অভাবের মধ্যদিয়ে সারা বছর রাজমিস্ত্রির (জোগালে) সহকারীর কাজ করে চালিয়ে গেছে নিজের লেখাপড়া।

চলতি বছর সে কালীগঞ্জ সরকারি নলডাঙ্গা ভূষন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধিনে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্ত এখন কিভাবে আসবে কলেজের লেখাপড়ার খরচ, সেই চিন্তায় পড়েছে তপনের পরিবার। তারা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ফয়লা মাষ্টারপাড়ার মনো মোল্যার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে তপন দাসের ভাড়া বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মাটির মেঝের ওপর টিনের ছাউনি ও বেড়ার দুটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়ায় বসবাস তাদের।

হতদরিদ্র মেধাবী তপন দাস জানায়, এতোদিন বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো ভর্তি শুরু হবে। কাজ করে অল্প কিছু টাকা জোগাড় করেছি। বাকিটা কোথায় পাবো আর কিভাবেই বা দূরের কোন কলেজে ভর্তি হয়ে খরচ চালাবো, এটা ভেবে কোন পথ পাচ্ছি না।

মা সুমিত্রা দাস জানান, আমাদের নিজেদের কোন জায়গা-জমি নেই। পরের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। আমার অন্য ছেলেরাও দিনমজুর। তারাও পৃথক সংসার করছে। অভাবের সংসারে স্বামী কোন কাজ করতে পারেন না। আমিও অসুস্থ তবে বেঁচে থাকার তাগিদে এলাকার শ্যামল বিশ্বাসের বাসায় কাজ করি।

তিনি বলেন, ছোট ছেলে তপন লেখাপড়া করে। সংসারের অভাবের তাগিদে এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তাকে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করতে হয়। স্কুল বাড়ির কাছে হওয়ায় এতদিন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পেরেছে। এখন কারিগরি কলেজে ভর্তি হতে হলে শুনছি যশোর অথবা ঝিনাইদহে যেতে হবে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

তিনি আরও বলেন, চেয়েছিলাম নিজেরা না খেয়ে থাকলেও ছোট ছেলেটাকে একটু লেখাপড়া শেখাবো। কিন্ত অভাবের সংসারে আমাদের কাছে এটা দুঃসাধ্য এক ব্যাপার হয়ে গেছে।

প্রতিবেশি রাজু আহম্মেদ জানান, তপন দাসের সাংসারিক অবস্থা বিবেচনা করলে কথাটা দাঁড়ায় এমন, সাধ আছে কিন্ত সাধ্য নেই। শুধু লেখাপড়ার কথাই না, তারা ঠিকমতো খেতেও পায় না। তারপরও লেখাপড়ার প্রতি তপনের আগ্রহ ও ফলাফল সন্তোষজনক।

কালীগঞ্জ ফয়লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম মিঠু জানান, তপন দাসের পরিবার ভূমিহীন ও অভাবী। তপন দাস নিজে রাজমিস্ত্রির জোগালের কাজ করেও পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করায় তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best