ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২০, ১৯:১৭

প্রিন্ট

মড়ার ওপর খাড়ার ঘা

মড়ার ওপর খাড়ার ঘা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামের মোসা. ফাতেমা বেগম (৩৫)। স্বামী মনিরুল ইসলাম গাজী দিনমজুর। তাদের সংসারে রয়েছে দুই বছর বয়সী এক ছেলে। স্বামী দিন মজুরী করে দিন শেষে যা আয় রোজগার করে তা দিয়েই কোন রকমে চালিয়ে নেন সংসার। নদীর কূল ঘষে গড়া একচালা টিনের ঘরে অভাবে সংসারে দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু বাঁধ সাধলো বন্যার পানি। নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়া ভাঙ্গা ঘরে এখন মাজা পানি। তাই ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে ঠাঁয় হয়েছে সড়কের উপর। ছেলে আর স্বামীর জন্য করছিলেন রান্না।

ফাতেমা বলেন, জমি জমা না থাকায় নদীর কূলে সরকারি জায়গায় একচালা টিনের ঘর তুলে স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। স্বামী দিন মজুরী করে যা রোজগার করে তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছিল সংসার। কিন্তু নদীতে পানি বাড়ায় ঘরে এখন মাজা সমান পানি।

ঘরে থাকতে না পেরে এখন নিজামকান্দি গ্রামের রামদিয়া-উলপুর সড়কের উপর ছাবড়া টাঙ্গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। চার দিন যাবত সড়কের উপর বসবাস করলেও কোন সরকারী সহযোগিতা পাইনি। স্বামী দিন মজুর করে যা পায় তাই দিয়েই কোনভাবেই চলছি।

কথা বলার সময় পাশের খেলছিল ফাতেমার দুই বছর বয়সী শিশু পুত্র। এক দিকে বন্যায় ঘর তলিয়ে যাওয়া অন্য দিকে অভাবের সংসার। কিন্তু ছেলে মিষ্টি হাসিতেই যেন সব অভাব আর কষ্ট দূর হয়ে যায় ফাতেমা ও মনিরুল দম্পতির।

শুধু ফাতেমা ও মনিরুল নয় এমন অবস্থা নিজড়া এলাকার আরো প্রায় ৩০টি পরিবারের। বন্যা কবলিত ওইসব পরিবারগুলো জানায়, ঘর তলিয়ে যাওয়া সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছেন তারা। সরকারী সহযোগিতা না পাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। সেই সাথে খাবার পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায় ভুগছেন তারা। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা দাবী জানিয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্ধি পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের সাহায্যের জন্য দেড়শ’ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে জেলার সর্বত্র খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best