ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ৩১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২০:২০

প্রিন্ট

দেনা পাওনার দ্বন্দ্বে আবুল খায়েরকে খুন করে তার ভগ্নিপতি

আবুল খায়েরকে খুন করে তার ভগ্নিপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেনা-পাওনার দ্বন্দ্বে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আবাসন ব্যবসায়ী আবুল খায়েরকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার ১৫ ঘণ্টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার পরের দিন অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আবুল খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মো. মিলনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়।

আবুল খায়েরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজিব বিল্ডার্সে ‘রড বাইন্ডার’ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মিলন। মূলত তাদের দুজনের মধ্যে দেনা-পাওনার দেন দরবারের দ্বন্দ্বে রাগে ক্ষোভে মিলন প্রথমে রড এবং পরে কাঠ দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে আবুল খায়েরকে।

রোববার দুপুরে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজীব বিল্ডার্সের মালিক আবুল খায়েরের (৫২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত আবুল খায়েরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। ঘটনার ১৫ ঘণ্টার মধ্যে গতকাল শনিবার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মূলত অভিযুক্ত মো. মিলনকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি আরো বলেন, গত ৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন আবুল খায়ের। প্রতিদিন সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরলেও সেদিন ফেরেননি। তার ফোনও বন্ধ ছিলো। পরে তার স্ত্রী রুপালী বেগম বসুন্ধরা এম ব্লকের একটি নির্মাণাধীন ভবনের স্বামীর বন্ধুদের নিয়ে যান। রাস্তায় তার স্বামীর মোটরসাইকেল দেখতে পান। পরে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় রক্তাক্ত অবস্থায় আবুল খায়েরে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

অভিযুক্ত মো. মিলন ও আবুল খায়ের দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করতেন। প্রথমে দুজনই ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক। পরবর্তীতে তারা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিল তিল করে গড়ে ওঠা এই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এমডি হন আবুল খায়ের। আবুল খায়েরের ভাগ্য ফিরলেও ফেরেনি মিলনের ভাগ্য। তিনি এখনো নির্মাণ শ্রমিকই। মিলন মূলত সজীব বিল্ডার্সেই রড বাইন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। দৈনিক ৬শ’ টাকা মজুরিতে মিলন কাজ করে আসছিলেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। নির্মাণ ব্যবসা করেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। নবনির্মিত যে প্রজেক্টে কাজ চলছিল সেখানে আবুল খায়ের ছিলেন মূল ঠিকাদার এবং সেখানে মিলন ছিলেন প্রধান শ্রমিক।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মিলন দাবি করেছেন, তিনি তার প্রাপ্য মজুরি হিসেবে প্রায় ৮ লাখ টাকা আবুল খায়ের কাছ থেকে পেতেন। মিলন ক্ষোভ ছিল ভগ্নিপতি আবুল খায়েরের উপর। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যে মুনাফা আসতো তার কোনো ভাগই ভগ্নিপতি আবুল খায়ের মিলনকে দিতেন না। একই প্রজেক্টে তিনি কাজ করেন তার ভগ্নিপতিও কাজ করেন, ভগ্নিপতি মুনাফা পাচ্ছেন কিন্তু তিনি পাচ্ছেন না। তাছাড়া শ্রমিক হিসেবেই মিলনকে ট্রিট করতো আবুল খায়ের। ডাকতে হতো বস বলে। এসব মানতে পারেননি মিলন।

ডিসি বলেন, অভিযুক্ত মিলন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার বিষয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, মিলন প্রায় বোনের বাসায় যেতেন। বোন এবং বোন জামাই আবুল খায়েরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি ভেবেই তিনি ভগ্নিপতি আবুল খায়েরকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে কথা বলতে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেখানে যাবার পর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ভবনে থাকা লোহার রড ও কাঠ দিয়ে আবুল খায়েরের মাথায় আঘাত করে মৃত্যুর নিশ্চিত করে মিলন পালিয়ে যায়।

ডিসি গুলশান সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আরো বলেন বলেন, ঘটনার পরে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছি নিহত আবুল খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মো. মিলন একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। হত্যাকাণ্ডের পর মিলন চাঁদপুর চলে যায়। পরেরদিন চাঁদপুর থেকে ঢাকা আসে মিলন। তার চলাফেলায় সন্দেহ করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তারের পর মিলন সব দায় স্বীকার করেন। আমরা খুব দ্রুতই এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত