ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:২৩

প্রিন্ট

মীম পড়ে ছিলো মেঝেতে, মৌ ঝুলছিলো রশিতে

মীম পড়ে ছিলো মেঝেতে, মৌ ঝুলছিলো রশিতে
রফিকুল ইসলাম, রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর মহানগরীর মধ্য গণেশপুর এলাকায় দুই বোন রহসজনকভাবে খুন হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশ দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলাও হয়নি।

তবে কিভাবে এই ডাবল খুন হলো তার রহস্য উদ্ধারে চুলচেরা বিশ্লেষণসহ পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা মাঠে কাজ শুরু করেছে।

ঘটনাস্থলে নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) শহিদুল্লাহ কাওসার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবু মারুফসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গেছেন।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, নিহত সোমাইয়া আক্তার মীম (১৫) কাপড় ব্যবসায়ী মোকছেন আলীর মেয়ে ও জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ (১৩) বিদ্যুতের মিস্ত্রী মমিনুল ইসলামের মেয়ে। তারা আপন চাচাতো বোন। মীম রংপুরের একটি মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণির ছাত্রী আর মৌ বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মীম ও মৌ রাতের খাবার খেয়ে মৌদের বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় ধাক্কা মারা হয়। এতেও কোন শব্দ না পেলে পুলিশকে খবর দেয় প্রতিবেশীরা। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাদের দু'জনের আলাদা লাশ দেখতে পায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ঘরের পূর্ব দিকের রুমের মেঝেতে পড়ে ছিলো। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাকে রক্ত রয়েছে। এছাড়াও তার রুম থেকে একটি ছেড়াহেড ফোন পাওয়া যায়। পাশের (পশ্চিমের) রুমে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলো সোমাইয়া আক্তার মীম।

প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছেন, মৌ ও মীমের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ্ব ছিলো কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। তারা কারণ হিসেবে অনেকেই বলছে, যদি তারা দুজনই আত্মহত্যা করে তাহলে একইসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে মারা যাবে। তা না হয়ে একজনের মৃতদেহ মেঝেতে আর একজন ফাঁসিতে কেন?

তাছাড়া মৌয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কোথায় গেলো, কে নিলো? রাতে বাসায় অন্য কেউ এসেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। এর পেছনে আরো অন্য কোন বিষয় লুকিয়ে আছে কিনা তা খুঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হবার আনুরোধ জানান তারা।

ঘটনাস্থলে যাওয়া নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ কাওসার জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। কি কারণে এই ঘটনা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত চলছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত