ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪০

প্রিন্ট

ইউএনও’র বাসায় অর্থসম্পদ পাওয়ার খবর ‘ভিত্তিহীন’

ইউএনও’র বাসায় অর্থসম্পদ পাওয়ার খবর ‘ভিত্তিহীন’
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবন শাপলা থেকে ৪০ লাখ টাকা, ৫ হাজার ইউএস ডলার ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তার পরিবার, পুলিশ ও প্রশাসন। এদিকে এমন সংবাদকে মনগড়া বলে উল্লেখ করেছে ইউএনও'র পরিবার। আর এ ধরণের সংবাদ প্রচার করে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য কেউ ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি প্রশাসনের।

ঘোড়াঘাট ইউএনও আহত হওয়ার উপজেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়।

ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলার আলামত সংগ্রহ করার জন্য ঘটনাস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ভেন্টিলেটার দিয়ে হামলাকারীর ঘরে প্রবেশের রাস্তাসহ সকল আলামত যাতে নষ্ট হতে না পারে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসন এই সরকারি বাসভবনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। বাসভবনে যে কেউ যেতে চাইলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে হয়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই মামলার বাদী ইউএনও ওয়াহিদার বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন, ওসি আজিম উদ্দীন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে যান। শেখ ফরিদ উদ্দীন বলেন, আমার বোনকে এক কাপড় পরেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার বোন নিজেই আমাকে বলেছিল আলমারি থেকে পুরাতন কাপড় নিয়ে যেতে। আবার নতুন কাপড় সেলাই করতেও ঝামেলার। তাই আলমারি থেকে আমার বোনের ব্যবহৃত পুরাতন কাপড় নিয়ে যাই। টাকা পয়সা, ইউএস ডলার এসব কিছুই ছিল না। আমি এসবের কিছু জানিও না!

এদিকে ইউএনওর বাসভবন থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহানুর রহমান, ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম ও ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন ইউএনওর আলমারি খুলে নগদ ৩৫ লাখ টাকা, ৫ হাজার ইউএস ডলার, স্বর্ণালঙ্কার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, টাকা জমার রশিদ, জমির দলিল সব অক্ষত রয়েছে এবং সেগুলো ওই কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিনের হেফাজতে দেন বলে অনলাইন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়।

এই খবরে নতুন করে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। তবে আলমারিতে কোন টাকা, ইউএস ডলার ছিল না বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী ও ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন। তাকে কোন কিছু বুঝিয়ে দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে তার বোনের জন্য পুরাতন কাপড় আলমারি থেকে বের করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান শেখ ফরিদ উদ্দিন।

দুর্বৃত্তের হামলায় সরকারি বাসভবনে গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে গুরুতর আহত হন ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী। এ ঘটনায় একদিন পর ইউএনও ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রথমে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদুল, রংমিস্ত্রি নবীরুল ও সান্টু কুমার বিশ্বাসকে সন্দেহভাজনভাবে আটক করে র‍্যাব। আটকৃতদের মধ্যে আসাদুল ইসলাম চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর বাসভবনে ঢুকে তার ওপর হামলা করেছিলেন বলে র‍্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসাদুলের স্বীকারোক্তির কয়েকদিন পর ওই ঘটনায় ইউএনও অফিসের চাকরিচ্যুত মালি রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রবিউলকে আটক করা হয় এবং হামলার সাথে রবিউল সরাসরি যুক্ত বলেও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।

জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, টাকার প্রশ্ন কেন আসবে? এত টাকা কি কেউ বাড়িতে রাখে? আপনারা হলে এত টাকা বাড়িতে রাখতেন? আর আমরা তো টাকা দেখিনি। শুধু পুরাতন কাপড় তার ভাই বের করে নিয়ে গেছে। টাকা পয়সার কথা যারা বলছেন তারা কিভাবে জেনেছেন আমাদের জানা নেই।

বিরামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, আমরা শুধু আলমারির চাবি ইউএনওর ভাইকে দিয়েছিলাম। টাকা পয়সার প্রশ্নই আসে না।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। কে কিভাবে প্রচার করেছে আমরা জানি না।

জানতে চাইলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও এর সাথে পরিকল্পনাকারীকে আড়াল করার জন্য একটি গোষ্ঠী চেষ্ঠা চালাচ্ছে। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলায় দেশবাসী যে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, সেই দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেয়ার জন্য একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।

জেলা প্রশাসক আরোও বলেন, আমার যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বক্তব্য দিয়েছে সেখানে কোথাও টাকার কথা উল্লেখ নেই। বিষয়টাকে কে কিভাবে ছাড়াচ্ছে আমরা সেটাও জানি না। এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন ইউএনওর ভাই। যদি তিনি টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে বলুক। কিন্তু তিনিও তো জানেন না এই টাকা, ডলারের কথা। ইউএনওর বিষয়ে কেউ কেউ মিথ্যাচার চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

যেভাবে ইউএনওর ওপর হামলা করেছিলো রবিউল

ইউএনও’র ওপর হামলা: রিমান্ডে যে তথ্য দিলেন রবিউল

ইউএনও’র উপর হামলা: ফের রিমান্ডে রবিউল

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত