ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫৬

প্রিন্ট

এক বছরেও নির্মূল হয়নি ক্যাসিনো ব্যবসা

এক বছরেও নির্মূল হয়নি ক্যাসিনো ব্যবসা
ফাইল ছবি
সুশান্ত সাহা

গত বছরের বহুল আলোচিত ঘটনা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। এ অভিযান প্রথম শুরু করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে এতে যোগ দেয় থানা পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য ইউনিট। ওই সময় ক্যাসিনো ছিল সবার মুখে মুখে। এখনোও নির্মূল হয়নি সেই ক্যাসিনো ব্যবসা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডোমেইন থেকে ‘অনলাইন ক্যাসিনো’ চলছে। তবে সেগুলো একদমই ছোট পরিসরে। তারা এখনো শক্তভাবে অবস্থান করতে পারেনি। এসব অনলাইন ক্যাসিনোর ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর প্রথম দিনই রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

সম্রাটের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ক্লাব কেন্দ্রিক ক্যাসিনোকাণ্ডের কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য বেরিয়ে আসে। এই ক্যাসিনোকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে গণপূর্তের ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের টেন্ডার বাণিজ্য। গ্রেপ্তার হন মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো পরিচালনাকারী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিফুল আলম ফিরোজ, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান সমন্বয়কারী সেলিম প্রধান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক ওরফে মনজু।

ক্যাসিনো অভিযান শুরুর পর অনেকেই গা ঢাকা দেন। কেউ কেউ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে আত্মগোপন করেন। অভিযান শেষ হওয়ার পরে দেশে ফিরেন অন্তত ৩০/৩৫ জন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৩ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে ক্যাসিনো বিরোধী মোট ৪৯টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৩২টি র‌্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ২২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ১১টি ক্যাসিনো ও ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এই ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ক্লাবগুলো হল- ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, ধানমন্ডি ক্লাব, ফু-ওয়াং ক্লাব, চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, আবাহনী ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ। এরপর আরো বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসব অভিযানে ৮ কোটি ৪৫ লাখ নগদ টাকা, ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক জব্দ করা হয়। এছাড়া আট কেজি স্বর্ণ, ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় দায়ের করা হয় মোট সর্বমোট ৩২টি মামলা। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি মামলার তদন্ত করে র‌্যাব। এর মধ্যে ১৩টি মামলার চার্জশিট আদালতে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া এখনো ১টি মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বাকি ১৮টি মামলা তদন্ত করে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত করার মামলাগুলোর মধ্যে সাতটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। এদের মধ্যে গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের ৫টি মামলার মধ্যে ৪টির চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, এনু-রুপনের কাছ থেকে জমিসহ ২০টি বাড়ি, ১২০টি ফ্ল্যাট, ২৫ কাঠা জমি ছাড়াও ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৯ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ক্যাসিনো অভিযানের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ১৩ টি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান এখনো অব্যাহত আছে। তবে আগের মতো ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা হয় না বললেই চলে। অনলাইনে কেউ কেউ পরিচালনা করছে। আমরা তাদের নজরদারিতে আনার চেষ্টা করছি। যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: সম্রাট গ্রেপ্তার!

চাঞ্চল্যকর তথ্য: ফেঁসে যাচ্ছেন রাঘববোয়ালরা​

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত