ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৪

প্রিন্ট

অভিযানিক সাহসী ‘এসিল্যান্ড আপা’

অভিযানিক সাহসী ‘এসিল্যান্ড আপা’
শওকত জামান, জামালপুর প্রতিনিধি

অভিযানিক সাহসী ম্যাজিস্ট্রেট ‘এসিল্যান্ড আপা’। নাম তার মাহমুদা বেগম। সাহসী অভিযান চালিয়ে সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। ‘এসিল্যান্ড আপা’ নামেই চেনেন সবাই। তিনি জামালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মরত। যেখানেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দেখেন, সেখানেই টিম নিয়ে ছুটে যান তিনি। ইতোমধ্যে বেশকিছু সাহসী অভিযান চালিয়ে জামালপুরবাসীর মাঝে সাহসী নারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি এখন জামালপুরের মানুষের প্রিয় ‘এসিল্যান্ড আপা’।

এসিল্যান্ড মাহমুদা বেগমের ছুটেচলা থামাতে পারেনি করোনা নামক ভয়ংকর মরণব্যাধি। সাড়ে তিন বছরের জমজ ও ৮ মাসের শিশু সন্তান ঘরে রেখে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে। অংশ নিয়েছেন সচেতনমূলক নানা কার্যক্রমে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে করেছেন জরিমানা-কারাদণ্ড।

মানবিক মানুষটি করোনাকালের বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন বানভাসীদের দ্বারে দ্বারে। করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন ও ১৪ দিন আইসোলেশন মিলে ২৮ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে জয়ি হন। হোম কোয়ারেন্টেইনে থেকে সুস্থ হন। তারপরও দমে যাননি এই করোনার সম্মুখযোদ্ধা। ফের নেমে পড়েন অভিযানিক যাত্রায়। ছুটছেন পথে প্রান্তরে; যেখানেই অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে সেখানেই হাজির হচ্ছেন। করোনায় সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য জামালপুর প্রেসক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সন্মানসূচক ক্রেস্ট দিয়েছেন।

তার বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা থানার পাঠাকাঠা ইউনিয়নের দশকাহুনিয়া গ্রামে। পল্লীগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে শৈশব কৈশরে দূরন্তপনায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। ২০০৪ সালে শেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) প্রথম শ্রেণিতে, ২০১২ সালে এমএ প্রথম শ্রেণিতে পাস করেন। ২০১৩ সালে ৩৪তম বিসিএসএ উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৬ সালে সিলেটে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন।

মাহমুদা বেগম সদর উপজেলা এসিল্যান্ড পদে যোগদান করেছেন ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে তিনি মেলান্দহে একই পদে কর্মরত ছিলেন। জামালপুর সদরে চাকরির মাত্র ৬ মাসেই ২০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ প্রায় ৩০০টি অভিযান চালিয়েছেন।

অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেছেন শহরের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গায় থাকা অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ বালু, অবৈধ ড্রেজার। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিতিশীল নিয়ন্ত্রণ, সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে জলবদ্ধতা নিরসনসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনামূলক কার্যক্রম চালিয়ে স্বার্থবাদী ভিত কাঁপিয়ে তুলেছেন।

বহ্মপুত্র নদের খননকাজে একটি কুচক্রী মহলের উস্কানিতে এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের কাউন্সিলিং করে খননকাজ শুরু করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি পেঁয়াজের অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণেও বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের সিংহভাগ মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব এসিল্যান্ড মাহমুদা বেগমের কাঁধেই পড়ে। পরিশ্রমী এই নারী কর্মকর্তা সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন ক্লান্তিহীনভাবে।

মানবাধিকার ও সমাজকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, অবৈধ ও অনৈতিক প্রতিটি কাজে তার দুঃসাহসিক অভিযানের প্রতি আমরা জামালপুরবাসীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাই। পাশাপাশি যারা অপরাধ ও অনৈতিক কর্মের সাথে যুক্ত তাদের আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান রইলো।

তিনি আরও বলেন, এসিল্যান্ড আপার মতো অনুসন্ধান সাপেক্ষে অন্যন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এগিয়ে আসলে আমাদের জেলা আলোকিত হয়ে উঠবে। যত বাধা-বিপত্তিই আসুক, এসিল্যান্ড আপা আপনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে যান। জামালপুরের সাধারণ মানুষ আপনার সাথে রয়েছে।

এসিল্যান্ড মাহমুদা বেগম বলেন, সদিচ্ছা থাকলে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অনেক অসম্ভব কাজও কার সম্ভব হয়। জনসাধরণের জন্য কাজ করতে এসেছি। কাজটি সঠিকভাবেই করে যাবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত