ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৪

প্রিন্ট

নটরডেমে পড়ায় একঘরে শিক্ষার্থীর পরিবার

নটরডেমে পড়ায় একঘরে শিক্ষার্থীর পরিবার
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

নটরডেম কলেজে লেখাপড়া করায় ‘খ্রিস্টান’ অপবাদ দিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জুয়েল খান নামের এক মেধাবী ছাত্রের পরিবারকে সমাজচ্যুত বা একঘরে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জুয়েল খান উপজেলার তরফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ৪০তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় ও আদালতে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্তে গিয়ে সত্যতার প্রমাণও পেয়েছে থানা পুলিশ।

গত চার মাস ধরে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাউকে সমাজের কারও সাথে মিশতে দেওয়া হয় না। সমাজের সবাইকেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি গত ঈদুল আজহায় ওই পরিবারটিকে সামাজিকভাবে পশু কোরবানিতেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে মিজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর মিলে জুয়েলের পরিবারকে খ্রিস্টান অপবাদ দিয়ে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেয়। বিষয়টি খুবই অমানবিক। পুলিশি তদন্তে এর সত্যতা রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বাড়ির সীমানা নিয়ে জুয়েল খানের পরিবারের সঙ্গে চাচাতো ভাই আবদুর রশিদ খানের ছেলে শরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে গত পহেলা মে শরিফুল ইসলামের লোকজন লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে জুয়েলদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের মারপিট করেন।

এ ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন শরিফুল ইসলাম, আবদুল বাছেদ মিয়া, রমজান আলী, আবদুল লতিফ, তারিকুল ইসলাম ও লিটু আনাম। এ সময় একই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মাসুদ জুয়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘তুই খ্রিস্টান কলেজে (ঢাকার নটরডেম কলেজ) লেখাপড়া করেছিস। এছাড়া তুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় লেখাপড়া করেছিস।

নটরডেম কলেজ যারা পড়ে তারা খ্রিস্টান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলায় লেখাপড়া করে তারা নাস্তিক। তুইও নাস্তিক।’ নাস্তিকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুমকি দেন। এছাড়া জুয়েলের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন তারা।

জুয়েল ও তার ভাই মারুফ খান এসব কথার প্রতিবাদ করলে রফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গীরা জুয়েল ও তার বাবা মফিজুল ইসলাম, মা আমেনা বেগম, নানি ইয়ারন বেগম ও ভাই মারুফ খানকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে আহত করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন

মূল্যায়নে পাস চায় শিক্ষার্থীরা

এমপিওভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ১০ম গ্রেড!​

প্রাথমিকের ক্ষতি পোষাতে যা ভাবছে ডিপিই​

সরকারি শিক্ষকের বোবাকান্না​

প্রাথমিকে হচ্ছে তালিকা, ডিসেম্বরের মধ্যে সমাধান

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত