ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৪

প্রিন্ট

গাজীপুরে পুলিশের অস্ত্র-গুলি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুরে পুলিশের অস্ত্র-গুলি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৫
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়ির নোয়াপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এক আদম ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে গিয়ে জনতার হামলায় দুই পুলিশ ও এক আনসার সদস্য ছাড়াও আদম ব্যবসায়ীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এসময় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শর্টগান ও গুলি ছিনিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হামলার শিকার কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার নবিয়া গ্রামের আবুল হোসেন জানান, তিনি ঢাকার পুরানো পল্টন এলাকার ‘রাখা ইন্টারন্যাশনাল’ এর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। লাইসেন্সধারী এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানো হয়। এবছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি নোয়াপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেন ও শাহদত হোসেন নামের দুইজনকে দুবাই পাঠানো জন্য তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৬০হাজার টাকা নেয়া হয়। তাদের কাগজপত্র প্রক্রিয়া করতে গিয়ে করোনাকালীন লকডাউনে পড়ে যান তারা। এতে করে তাদের আর বিদেশ পাঠানো সম্ভব হয়নি।

এমতাবস্থায় ইসমাইল হোসেন তাদের জমা দেয়া টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে এপ্রিলে ইসমাইলকে ৫০হাজার টাকা বিকাশ করে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফোন করে ইসমাইল তাকে তার গ্রামের বাড়িতে দাওয়াত দেন এবং আরো লোকজনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আলোচনা করার প্রস্তাব দেন।

দাওয়াত পেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে তিনি (আবুল হোসেন) ও তার অপর বন্ধু মো. ফয়সাল আহমেদকে নিয়ে শ্রীপুরের নোয়াপাড়া ইসমাইলের বাসায় যান। পরে ইসমাইল তার ঘরের ভেতর তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষে দরজা আটকে দিয়ে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমা ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ আরও কয়েকজন নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৩০০টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং তার সঙ্গে থাকা দুইটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে যায়। পরে ওই স্ট্যাম্পে ইসমাইল আমার কাছে ৫লাখ টাকা পাবেন বলে লিখে এনে তাকে ওইদিনই পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ দেয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানিয়ে আমার সহকর্মী মো. ফয়সালকে খবর দিলে শুক্রবার রাত ৮টায় ফয়সাল, তার বন্ধু ওমর ব্যাপারী, মো. কালাম ও মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে পৌঁছান। মাসুম ছাড়া অন্যরা ওই ঘরে ঢুকেন। তারপর ঘরের দরজা আটকে স্ট্যাম্প দেখিয়ে ৫লাখ টাকা দাবি করে ইসমাইল ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে টাকা না নিয়ে যাওয়ায় তাদের উপর হামলা শুরু করে। মাসুম বাইরে থেকে টের পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শ্রীপুর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ইসমাইলের বাড়িতে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ইসমাইল ও তার লোকজন অতর্কিত পুলিশের উপরও হামলা চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে থাকা শর্টগান ও পিস্তলের গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই মহিলাসহ ৫জনকে আটক এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। আহত পুলিশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মারামারি ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা মামলা হয়েছে। মামলায় ২৪জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫জনকে আসামি করা হয়েছে। মূল হামলাকারী ইসমাইলসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত