ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০৪

প্রিন্ট

যৌতুক না পেয়ে চুল কেটে দিলো স্বামী

যৌতুক না পেয়ে চুল কেটে দিলো স্বামী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করে চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে মহারাজুপুর ইউনিয়নের পিয়নপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি আলোচনায় আসে পরে।

এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় স্বামী রবিউল ইসলাম, শশুর ইসরাফিল শেখ ও শাশুড়ি জাইলি বেগমকে আসামি করে বৃহস্প্রতিবার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিত ওই নারী।

ঘটনার পর পুলিশ শাশুড়ি জাইলি বেগমকে গ্রেপ্তার করলেও স্বামী রবিউল ও শশুর ইসরাফিল শেখ পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথি, নির্যাতিত নারী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সম্মতিতে ৫ বছর আগে একই গ্রামের রবিউলের সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রবিউল ও তার পরিবার। এর জন্য নানা সময়ে চাপও দিতে থাকে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ৫০ হাজার টাকা দেয় ওই নির্যাতিত নারীর পরিবার। কিন্তু বাকি টাকার জন্য বিভিন্ন সময় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে রবিউল।

নির্যাতিত নারী জানান, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে টাকার দাবিতে রাতে বাসায় ফিরে মাদকাসক্ত হয়ে তাকে মারধর করতো স্বামী। নির্যাতনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। গত বুধবার শশুরবাড়িতে গেলে সারাদিন কথা শোনায় শশুর-শাশুড়ি ও তার স্বামী।

তিনি বলেন, আমার দিনমজুর বাবার পক্ষে দেড় লাখ টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। ওইদিন বিকেলে শশুর-শাশুড়ির যোগসাজশে আমাকে মারধর করে স্বামী। এক পর্যায়ে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয়। এমন অমানবিক নির্যাতনের পর আমি বাবার বাড়ি চলে আসি এবং থানায় মামলা দায়ের করি। আমি আমার ওপর হওয়া অমানবিক এ ঘটনার বিচার চাই।

নির্যাতিত নারীর বাবা এমরাজ শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করতো জামাই রবিউল। কয়েকবার মেয়েকে নিয়ে চলেও এসেছি। কিন্তু বারবার অনেক অনুরোধের পর এবং নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিলে মেয়েকে আবার শশুরবাড়ি পাঠাই।

তিনি বলেন, মেয়ের সুখের কথা ভেবে ধার-দেনা করে ৫০ হাজার টাকাও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু মেয়ের শশুরবাড়ির লোকজন আরও দেড় লাখ টাকা চায়। সেই টাকা না দিতে পারায় আমার মেয়ের সাথে এমন অমানবিক আচরণ করে তার শশুরবাড়ির লোকজন ও জামাই রবিউল ইসলাম। এ ঘটনার বিচার চাই আমি।

তিনি আরও জানান, তার জামাই রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। কাজ করে যা আয় করতো তার সবকিছুই গাঁজা-মদ খেয়ে শেষ করে দিত। আর সংসার ও কিস্তি চালাতে গিয়ে বাড়িতে ফিরে তার মেয়েকে টাকার চাপ দিতো এবং মারধর করতো।

পলাতক থাকায় রবিউল ও তার পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিত ওই নারী তার স্বামী, শশুর-শাশুড়িকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে রবিউলের মা জাইলী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কাজ ও অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত