ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ২২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৯

প্রিন্ট

মধ্যরাতে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা

মধ্যরাতে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা
যশোর প্রতিনিধি

যশোরে শনিবার গভীর রাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে সামনে তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

হামলাকারীরা বিএনপির কার্যালয়ে তালাও লাগিয়ে দিয়েছে। হামলার সময় এক বিএনপি নেতা পারিবারকে বাঁচাতে ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলিও ছোড়েন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা একাধিক প্রাইভেটকার, ২০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের ৭ নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর ও অশ্রাব্য-অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এতেকরে ওই মধ্যরাতে নেতাদের পরিবারের শিশু সন্তানসহ নারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা নৌকার পক্ষে শ্লোগানের সাথে সাথে নির্বাচনের মাঠে না নামার জন্য হুমকি দেয়।

হামলা চালানো হয়েছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের পত্নী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, অ্যাড. আনিছুর রহমান মুকুল, গোলাম রেজা দুলু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়িতে ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে।

জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক এসকেন্দার আলী জনি জানান, রাত ২টার দিকে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই জন এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়। এ সময় তিনি কাজ শেষে বের হন। মোটরসাইকেল আরোহীরা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলে, তোকে চারখণ্ড করে ফেলবো, ভোট করা বের করছি’।

এ সময় আরও কমপক্ষে ২০টি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় এবং আরোহীরা নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও মারপিট করে। তারা ভোটার তালিকা ও স্লিপ নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কার্যালয়ের দুই প্রবেশ পথের দরজায় তালা লাগিয়ে যায়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, এ তাণ্ডবের সময় যশোর কোতয়ালি থানার ওসিকে ফোন দিয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেননি। শুধু বলেন, আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।

খোকন আরও বলেন, এ সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই এমনটা হচ্ছে। এ নির্বাচনেও তাই হলো। বিএনপি নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করে নির্বাচন ভোটারশূন্য করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এ তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে আমরা হতাশ হইনি। ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো আমরা।

বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুলু জানিয়েছেন, তার বাড়িতে রাত সোয়া দুইটার দিকে হামলা চালানো হয়। তিনি ডাকাত মনে করে তার ব্যক্তিগত পিস্তল থেকে ফাঁকা ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। হামলাকারীরা তার বাড়ি জানালার কাঁচ ভেঙে দেয়। বাড়িতে বসানো সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে।

এদিকে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। আমার ধারণা এটা বিএনপির পাতানো খেলা। নির্বাচন আসলেই বিএনপি আগাগোড়া এমন করে। ভোটে পাস করতে পারবে না জেনে তারা এমন করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে।

কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। তারা এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার জাতীয় সংসদের যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। ২০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ।

এদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনের অবর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, গোলাম রেজা দুলুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত