ঢাকা, রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ১৬:১৬

প্রিন্ট

হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের

হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছর ব্যাপক হলুদের চাষ হয়েছে। হলুদ একটি মশলা জাতীয় খাদ্য দ্রব্য। হলুদের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষদের ভেতর এ মশলা জাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বেড়েছে। প্রায় সব ধরনের রান্না করা খাবার তৈরিতে এ উপকরণটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর হলুদের চাহিদা ও বাজার দর ভালো হওয়ার কারণে বেশি করে হলুদের আবাদ করছেন কৃষকেরা।

হলুদ আবাদ সাধারণত ৯ মাস ব্যাপী হয়ে থাকে আর বিঘা প্রতি কাঁচা হলুদ পাওয়া যায় প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ মণ। হলুদে তেমন রোগ বালাই নেই বলে কৃষকদের তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করলে এর ফলন ভালো পাওয়া যায়। বাজার দর বেশি হওয়ায় এ বছর কেশবপুরে হলুদের আবাদে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।

প্রতি বিঘা জমি হলুদ চাষের জন্য তাদের খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। গত বছর প্রকার ভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ হলুদ বাজারে বিক্রি হয়েছে। সেই তুলনায় এ বছর হলুদের বাজার দর আরো বেশি হবে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। সে কারণে তারা হলুদ বিক্রি করে লাভবান হবেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৬০০ শত বিঘা জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। উঁচু এলাকা হলুদ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় হলুদের দাম বেশি হওয়ায় উপজেলার কাবিলপুর, হাসানপুর, বরনডালি, মির্জানগর, চাঁদরা, বড়েঙ্গা, মঙ্গলকোট, মজিদপুর, দোরমুটিয়া ও সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃষকরা ব্যাপকভাবে হলুদের আবাদ করেছেন।

ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন জানান, তিনি দোরমুটিয়া গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তির ৩৫ কাঠা জমি বাৎসরিক কাঠা প্রতি ১ হাজার টাকা দরে হারি দিয়ে হলুদ আবাদ করেছেন। তার হলুদ আবাদে প্রতি কাঠায় ৭২০ টাকা বীজ, সার ঔষধ বাবদ ২০০ টাকা এবং শ্রমিক বাবদ ১২০০ টাকা খরচ হয়েছে। গড় মিলে তার এক বিঘা জমিতে জমির হারিরসহ প্রায় ৬২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন কাঠা প্রতি ৫ থেকে ৬ মণ হলুদ পাবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি বিঘা প্রতি ১০০ মণ থেকে ১২০ মণ উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন।

কাঁচা হলুদের বাজার দর গত বছর প্রকার ভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছিলো। এ বছর বাজার দর যদি গত বছরেরটা থাকে তাহলে তিনি বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তবে পচন রোগ দেখা দিলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

মজিদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এই সময় হলুদে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় ঔষধ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে সেটা নিরাময় করা সম্ভব।

দোরমুটিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, হলুদ আবাদে খরচ অন্য ফসলের তুলনায় কম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হলুদ চাষ করে লোকসান গুনতে হয় না। মুনাফা ভালো হয়। এমন কথাই জানালেন উপজেলা অন্যান্য কৃষকরাও।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কেশবপুরে মাটি হলুদ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। হলুদে তেমন কোনো ধরনের রোগবালাই নেই বললেই চলে। হলুদ আবাদ সাধারণত ৯ মাস ব্যাপী হয়ে থাকে। এ উপজেলার কৃষকরা সাধারণত মাখালবাড়ি, ডিমলা ও স্থানীয় জাতের হলুদের আবাদ বেশি করে। সুন্দরভাবে পরিচর্যা করলে হলুদ বিঘা প্রতি ১২৫ মণ উৎপাদন হয়।

এ বছর হলুদের আবাদ হয়েছে ৬০০ বিঘা আর গত বছর আবাদ হয়েছিলো ৪৫০ বিঘা। যা গত বছরের তুলনায় ১৫০ বিঘা বেশি। কৃষি বিভাগ চাষিদের সবসময় সহযোগিতা, পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আগামীতে কৃষকের মশলা জাতীয় ফসল চাষের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত