ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

প্রিন্ট

পরিচয় মিলেছে সেই নারীর, চিহ্নিত হয়েছে খুনি

পরিচয় মিলেছে সেই নারীর, চিহ্নিত হয়েছে খুনি
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রাবাহী বাসে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা রোরকা পরিহিত অজ্ঞাতনামা নারীর পরিচয় মিলেছে। তার মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে ড্রামের ভেতর ঢুকিয়ে বাসের ছাদে তুলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় হত্যাকারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

নিহত সাবিনা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দিয়াসুর এলাকার কাতার প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তিন সন্তানের জননী সাবিনা পার্শবর্তী মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাহেব আলীর মেয়ে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কাতার প্রবাসী স্বামীর সহায়তায় বিদেশে লোক পাঠাতেন সাবিনা।

প্রবাসী শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হাওলাদার জানান, তার ভাই-ভাবির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার জন্য গৌরনদীর মাহিলাড়া এলাকার খালেক হাওলাদার বেশ কিছুদিন আগে ৪ লাখ টাকা দেয়। বিলম্ব হওয়ায় খালেক বিদেশে যেতে অসম্মতি জানালে ভাবি সম্প্রতি তাকে (খালেক) দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়। গত শুক্রবার সকালে দুই সন্তান নিয়ে দিয়াসুরের বাড়ি আসে ভাবি। সকাল ১০টার দিকে খালেক ডাকছে বলে বরিশাল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।

আরও পড়ুন: বলেছিলো ‘ড্রামভর্তি কাচ’ খুলতেই নারীর লাশ

সারাদিনেও তিনি বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওই রাতে ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে বাসের ছাদে ব্যারেলের মধ্য থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার দিনভর চেষ্টা এবং আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সাবিনার পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেয়া হয়। আমরা ভাবির মরদেহ শনাক্ত করি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, সাবিনার মুঠোফোন ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে শুক্রবার সে বরিশাল নগরীতে গিয়েছিলো। টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাবিনার মাথার পেছনের দিকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ গুম করতে ব্যারেলের মধ্যে মরদেহ ঢুকিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি গড়িয়ারপাড় থেকে ভূরঘাটাগামী বাসের ছাদে ব্যারেলটি তুলে দেয়।

ওসি বলেন, বাসটি ভূরঘাটা পৌঁছার পর মালিক দাবিদার কেউ ব্যারেল না নেয়ায় বাসের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। বাসের শ্রমিকরা ব্যারেলের মুখ খুলে এক নারীর মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দিনভর চেষ্টার পর সন্ধ্যায় ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হই।

এ ঘটনায় থানার এসআই আব্দুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন ওসি আফজাল হোসেন নিজেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত