ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:০২

প্রিন্ট

অভাবে বানরের ঘরে বাস

অভাবে বানরের ঘরে বাস
ছবি: প্রতিনিধি

মাদারীপুর প্রতিনিধি

একটি ছোট চায়ের দোকান করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছে নাদিরা ও তার স্বামী। জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার মত পরিস্থিতি বা টাকা উপার্জন নেই তাদের। তাই একটি ঘরের অভাবে ৮ বছরের সন্তান নিয়ে বানরের খাবারের ঘরে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছে মাদারীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা আব্দুর রহমান হাওলাদার মেয়ে নাদিরা।

সূত্রমতে, ফরিদপুর বন বিভাগের বিশেষ প্রজেক্টের আওতায় ১৯৯৯ সালে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বানরকে খাবার দেয়ার এই এলাকায় প্রচুর বানর আসতো। এরপর খাবারের ব্যবস্থা হিসেবে একটি ঘর ও ৫টি পানি খাওয়ার ঘর তৈরি করা হয়। কিন্ত পরে বানরের জন্য সরকারিভাবে তেমন বরাদ্ধ না থাকায় আস্তে আস্তে বানরগুলো বিভিন্ন এলাকায় খাবারের জন্য চলে যায়।

২০০৬-৭ ইং সাল থেকে পুণরায় খাবার দেয়া শুরু করে মাদারীপুর বন-বিভাগ। তবে সেটা অতি সামান্য হওয়ায় বছরের বেশীর ভাগ সময় অভুক্ত থাকে বানরগুলো এবং পরবর্তী অর্থ বছরগুলোতে বানরের জন্য কোন বরাদ্ধও না থাকায় বানরগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।

বানরগুলো চলে যাওয়ার পর ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় অসহায় ঘরহীন ৭টি পরিবার বানরের ঘরে ও তার পাশের জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। তবে বানরের ঘরগুলো কারা তৈরি করছে সঠিকভাবে কোন তথ্য মাদারীপুর বন বিভাগ দিতে পারেনি।

মাদারীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কুমার নদীর পাড়ে পৌর-কোলনীর পাশে নাদিরাসহ ৭টি পরিবার বানরের খাবার ঘর ও বানরের পানি খাওয়ার ঘর ও পাশের জমিতে কোন মতে ছাপড়াঘর নির্মাণ করে থাকছে। তবে নাদিরার ঘর নির্মাণের অর্থ ও জমি না থাকায় প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে বানরের খাবারের ঘরে বসবাস করছে।

নাদিরা বলেন, আমি অসহায় হয়ে আজ বানরের ঘরে থাকি আমার থাকার কোন স্থান নেই, যদি থাকতো আমি বানরের খাবার দেয়ার ঘরে থাকতাম না। তবে এখন আর এখানে কোন বানর দেখা যায় না এবং কেউ খাবারও দেয় না। খালিই পড়ে ছিল ঘরটি তাই আমি আমার সন্তান ও স্বামী মনজুর আলমকে নিয়ে থাকি, পাশাপাশি এখানে একটি ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসারের কিছু খরচ তোলার চেষ্টা করছি।

বানরের ঘরে বসবাস করার নাদিরা বেগমের বৃদ্ধা বাবা আব্দুর রহমান হাওলাদার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমার কোন জমি জমা নেই। আমার থাকার ঘর নেই। মেয়ে বা তার স্বামীকে কোথায় থাকতে দেব। তাই বাধ্য হয়ে বানরের ঘরে থাকে। সরকার যদি সহযোগীতা করে তাহলে হয়তো আর বানরের ঘরে আমার মেয়ে থাকবে না।

মাদারীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডেরর কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বেপারী জার্নালকে বলেন, বানর খাবার না পেয়ে এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে বিশেষ প্রজেক্টের মাধ্যমে বানরের খাবারের ঘর করে ফরিদপুর বন-বিভাগের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় পৌরসভাকে কিন্ত তাদের দেখভাল না থাকায় বানরের ঘরটি খালি পড়ে ছিল। তাই হয়তো একটি পরিবার সেখানে থাকে। তবে যদি খাবার দেয়া শুরু হয় তাদের সরাতে সময় লাগবে না। তাছাড়া যদি তাদের থাকার স্থান না থাকে তাহলে আমি সরকারি সহযোগীতা ছাড়াও নিজে আর্থিক সহযোগীতা করবো। এছাড়া ঐখানে বানরের খাবারের ঘর ছাড়াও পানি দেয়ার ৫টি ঘর রয়েছে সেগুলোও পরিষ্কার করে দেয়া হবে।

মাদারীপুর জেলা বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেন গুপ্ত বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, আমি জানতাম না বানরের কোন খাবারের ঘর আছে তবে এই ঘরগুলো আমাদের বন বিভাগের কিনা আমি নিশ্চিত না। হয়তো জেলা পরিষদ করতে পারে। তবে আমরা ফরিদপুর যোগাযোগ করে দেখব কারা এই প্রতিষ্ঠান করেছে। এরপর বলতে পারবো। তবে যেহেতু এগুলো বানরের জন্য তৈরি করা হয়েছে তাই এগুলো অতিসত্তর খালি করা হবে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, যাদের ঘর নাই তাদের প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনায় তাদেরকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি। এবং এরকম যদি কেউ থাকে তাহলে আমরা বঙ্গবন্ধু পল্লী নামকরণ করে তাদের সেখানে আমরা আশ্রয় দেব। আর বানরের ঘরে কেন মানুষ বসবাস করে, কেন এটা তদন্ত করা হচ্ছে না। আমি জেলা বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সকল গৃহহীন মানুষকে ঘর দিবেন এবং তিনি সেটা দিচ্ছেন। আর এরকম ঘটনা আমার জানা নেই, তবে এরকম সমস্যা যদি হয়ে থাকে তার জন্য আমরা সরকারিভাবে পূর্ণবাসন করে গৃহ দেয়ার ব্যবস্থা করব। তাছাড়া বানরের জন্য যে ইকো পার্কের কাজ শুরু হয়েছিল তার উন্নয়নের কাজের জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে।

বানরের ঘরে বসবাস। ঘরের সামনে মা ছেলে। ছবি: প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত