ঢাকা, সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:০৭

প্রিন্ট

ট্রাফিক পুলিশের বডি ক্যাম কী কাজে লাগে

ট্রাফিক পুলিশের বডি ক্যাম কী কাজে লাগে
প্রতীকী ছবি

জার্নাল ডেস্ক

সম্প্রতি বাংলাদেশের সিলেট এবং মৌলভীবাজার জেলায় ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা শরীরে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র ক্যামেরা যা বডি ক্যাম নামেও পরিচিত সেটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। পহেলা ডিসেম্বর ট্রাফিক পক্ষ-২০২০ উদ্বোধনের সময় সিলেট মেট্রোপলিটনে এই বডি ক্যামের ব্যবহার শুরু হয়।

২৩ ডিসেম্বর থেকে মৌলভীবাজার জেলায় রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি ক্যাম ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম শরীরে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র ক্যামেরা ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিল পুলিশ বাহিনী। তখন বেল্টের মাধ্যমে মাথা ও শরীরে বেঁধে রাখা এই ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দৃশ্য বা চিত্র ধারণ করা হত। সেসময় এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, পর্যায়ক্রমে অপরাধ বিভাগ ও থানায় এ ধরনের ক্যামেরা দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, জেলায় মোট ১০টি বডি ক্যাম ব্যবহারের অনুমোদন হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি বডি ক্যাম তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো পরবর্তীতে সরবরাহ করা হবে।

কীভাবে কাজ করে বডি ক্যাম?

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফুল্লাহ তাহের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে এরই মধ্যে সিসিটিভি রয়েছে। এগুলো কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া নতুন ডিভাইস হিসেবে চলতি মাস থেকেই ট্রাফিক পুলিশদের কাছে বডি ক্যাম সরবরাহ করা হয়েছে। বডি ক্যামগুলো কর্মকর্তাদের পোশাকের কলার কিংবা বুকের সাথে লাগানো থাকে।

এই বডি ক্যাম মোবাইলের সাথে সংযুক্ত করে এগুলো কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এর আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝড়-বৃষ্টিতেও এগুলো সচল থাকবে। অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যাবে। কাজ শেষে মেমোরি কার্ড থেকে ডাউনলোড করে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কীভাবে সাহায্য করে?

যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দায়িত্ব পালনের সময়ে ট্রাফিক কর্মকর্তারা কীভাবে জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ করে থাকে বা তাদের আচরণ কেমন হয় সে বিষয়টি নজরদারি করাই বডি ক্যামের প্রধান কাজ বলে জানান তাহের। তিনি বলেন, কীভাবে তারা পুলিশিং করছে এর সাহায্যে সেটা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এর আগে দুর্ঘটনা ঘটলে বা কোন অপরাধ হলে তার বিবরণ ওই স্থানে দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে হয়তো বলতেন বা তার মুখ থেকে বিবরণ শোনা হতো। এখন বিষয়টি আরো বেশি স্পষ্ট হলো কারণ এখন শুধু বিবরণ নয় বরং ওই ঘটনা দেখাও সম্ভব হবে। এর ফলে যে কোন ঘটনা, অভিযান বা কাজের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

এসএমপি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাফিক পুলিশ আর জনগণের মধ্যে যদি কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে এর মাধ্যমে যেহেতু কী ঘটেছে সেটা লাইভ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, তাই যেকোন ঘটনার ক্ষেত্রে কোন অভিযোগ থাকলে সেখানে ভুক্তভোগীর পক্ষে রায় দেয়াটাও সহজ হয়।

‘পুলিশের আইনসিদ্ধ কাজগুলি প্রত্যক্ষ করা যায়। সেই সাথে যদি কারো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ থাকে সেটাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা সম্ভব।’

রাস্তায় গাড়ির চালক, পথচারী এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও এর সাহায্যে জানা যাবে যে আসলে কী ঘটেছে। পথচারী ও গাড়ির চালক আইন অমান্য করেন কিনা, ট্রাফিক পুলিশের আচরণ পেশাগত ও আইনসম্মত হয় কিনা, এসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণের আওতায় চলে আসবে বলে তিনি জাানান। কারণ এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে থাকে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার কারণ জানতেও সাহায্য করবে এই বডি ক্যাম।

মৌলভীবাজারের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, বডি ক্যামের কারণে একদিকে যেমন ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা স্বচ্ছ হচ্ছে সেই সাথে অপরাধের ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ করাও সহজ হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র চাইলে, মামলা করতে গেলে চালকেরা অভিযোগ করেন যে আমরা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি। এটা থাকলে সেটা স্পষ্ট করার জায়গা থাকবে।

এই বডি ক্যামে অডিও এবং ভিডিও দুটিই রেকর্ড হওয়ার কারণে ঘটনার সত্যতা তুলে ধরা সম্ভব হয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, এটা একটা এভিডেন্স। কে কী বলছে, কে কী করছে জানা যায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত