ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৪৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:১০

প্রিন্ট

দারিদ্রতাকে জয় করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মাহিনুর বেগম

দারিদ্রতাকে জয় করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মাহিনুর বেগম
স্বাবলম্বী মাহিনুর বেগম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দারিদ্রতাকে জয় করে হাঁস, মুরগী পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন মাহিনুর বেগম। এখন প্রতিমাসে খামার থেকে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিদিন নানা বয়সের নারী-পুরুষ তার খামার পরিদর্শন করছেন। তার সফলতা দেখে অনেকেই খামার করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে অবস্থিত বড় চৌদ্দকানি নামক গ্রামে বসবাস করেন মাহিনুর বেগম। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। স্বামী-স্ত্রী, ৩ পুত্র সন্তান এবং শাশুড়ি।

মাহিনুর বেগমের ২০০১ সালে ১৭ বছর বয়সে বিয়ে হয়। লেখাপড়া মাত্র ১০ম শ্রেণি। স্বামী দিনমজুর অন্যের জমিতে কাজ করেন, তবে মাঝে মাঝে কৃষিকাজ করে কোনো রকমে সংসার চলতো। এক পর্যায়ে সংসারের ব্যয় এবং সন্তানদের পড়াশুনার খরচ চালানো একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো।

এরপর মাহিনুর চিন্তা করলেন নিজেদের ভাগ্যের চাকা কিভাবে ঘুরানো যায়। শুরু হয় মাহিনুর বেগমের সাথে অভাবের যুদ্ধ। জীবন যুদ্ধের চাকা যখন আর চলছিলো না ঠিক তখন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে গড়ে তোলেন হাঁস, মুরগীর খামার।

নিজের বাড়ির আঙিনায় ছোট একটি ঘর তুলে মুরগীর বাচ্চা পালন করেন। একটু বেড়ে উঠলে বাজারজাত করতে থাকেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে এই উদ্যোগ বেশি দিন ধরে রাখতে পারেন নি। তার সকল মুরগী নিউমোনিয়া ও রানীক্ষেতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে মাহিনুরের কষ্টার্জিত অর্থ আর স্বপ্ন যেন ভেঙ্গে যায়, তবুও হাল ছাড়েননি মাহিনুর বেগম। আবারো ঘুরে দাঁড়াবার প্রচেষ্টায় মাহিনুর ফের এনজিও হতে মার্কেটিং লিটারেসি, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব উন্নয়ন, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

এছাড়াও হাঁস-মুরগী পালন, গবাদি পশু-পাখির টিকা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বাজারজাতকরণসহ আরো অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক জ্ঞান লাভ করেন। তার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে ২০টি মুরগী ও ১টি মোরগ কিনে ব্যবসায়িক আকারে শুরু করেন।

পরবর্তীতে ৫’শ ব্রয়লার মুরগীর খামার করে পালন করতে থাকেন। এরপর ১০ শতক জমিতে ৫টি ঘর তুলে ৩ হাজার লেয়ার মুরগী আর গলেস্টিয়ান প্রজাতির গাভী পালন শুরু করেন।

মাহিনুর বেগম জানান, বর্তমানে তার খামারে ৩ হাজার ৫শ’ লেয়ার মুরগী, ২শ’ ৮০টি হাঁস ও ৪টি হলেস্টিয়ান জাতের গাভী রয়েছে। প্রতিদিন খরচবাদে হাঁস-মুরগীর ডিম ও গাভীর ১২ লিটার দুধ পাইকারদের কাছে বিক্রি করে ১১ হাজার টাকা আয় হয় তার। তার খামারে ৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন।

মাহিনুর বেগম বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছা শক্তি, ধৈর্য ও সঠিকভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে আজ আমি খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছি। এনজিও সুশীলন ও ব্র্যাকের কাছে আমি ঋণী। কারণ তারা সার্বক্ষণিক আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বেশ কয়েকবার মাহিনুর বেগমের খামার পরিদর্শন করেছি এবং ফার্মের হাঁস-মুরগী ও গাভীর সুস্থতার জন্য পরামর্শসহ নিয়মিত ওষুধ ও টিকা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত