ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৫০

প্রিন্ট

হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা খেতাব

সরকারি দলে থাকাই তার লক্ষ্য!

সরকারি দলে থাকাই তার লক্ষ্য!

কাউছার মিয়া, নরসিংদী প্রতিনিধি

দল পরিবর্তন আর ক্ষমতার আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা তার লক্ষ্য। যত কিছুই হোক, সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকতে হবে। কখনো বিএনপি, আবার কখনো জাতীয় পার্টি, কখনো আওয়ামী লীগ। তিনটি রাজনৈতিক দলেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন দলগুলোর সুসময়ে। এরুপ স্ট্যান্ডবাজি করে এখন ক্ষমতাসীন দলের পদে আসীন হয়েছেন তিনি।

একসময় নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থাকলেও অর্থবিত্ত আর লবিং-তদবিরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সভাপতি বনে গেছেন ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী।

জানা যায়, ১৯৭৭ সালে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী রাজনীতির যাত্র শুরু। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এরপর টানা ৯ বছর জাতীয় পার্টিতে ছিলেন।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার আন্দোলনে এরশাদ সকারের পতন হলে ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপির এমপি সামসুদ্দিন এছাকের হাত ধরে পুনরায় বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতার পালাবদল হলে ৯৭ সালে শওকত আলী পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। কিন্তু বিধিবাম, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তখন তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যান।

মাঝে ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে ২০০৯ সালে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের রাজনিতিতে যোগদান করেন। পরে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০১০ সানে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে মাধবদী পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। সেই সময় বিএনপির প্রার্থীর নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

এরই মধ্যে এক সময়ের জাপা ও বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় তাঁতীলীগের সভাপতি বনে যায়।

সম্প্রতি পৌর নির্বাচনকে ঘিরে এই নেতা নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে পৌরবাসীকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাধবদী শহরজুড়ে পোস্টারিং করেন। এরপর থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেজবা উদ্দিন ইরান বলেন, শওকত আলী ইঞ্জিনিয়ার একসময় বিএনপির রাজনিতিতে সক্রিয় ছিল। তবে কোন পদে ছিলো, তা আমার জানা নেই।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোতালিব পাঠান বলেন, শওকত আলী ইঞ্জিনিয়ার মুক্তিযোদ্ধা নয়। আমাদের তালিকায় তার নাম নেই। উনি কিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখে পোস্টার ছাপিয়েছেন, তা আমার জানা নেই।

মাধবদী ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনির পাঠান বলেন, উনির (শওকত আলী) সবসময় ক্ষমতায় থাকতে হবে। তাই যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলে যোগ দেয়। তাছাড়া উনার কোন ব্যবসাও নেই। ক্ষমতাকে পুঁজি করে অর্পিত সম্পত্তি, ভেজাল ও ওয়ারিসভুক্ত সম্পত্তি ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলীর সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত