ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪৪

প্রিন্ট

সেতুর গার্ডারে ফাটল, যান চলাচল বিঘ্নিত

সেতুর গার্ডারে ফাটল, যান চলাচল বিঘ্নিত

জার্নাল ডেস্ক

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সালেহপুর সেতুর গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।

এতে সেতুর একটি লেন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সড়ক ব্যবহারকারীরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খাঁন জানান, ‘দুই লেন বিশিষ্ট সেতুটির সাভার থেকে ঢাকাগামী লেনের অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুটি দ্রুত মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, সালেহপুর সেতুর একটি অংশ দেবে গেছে। সেতুর নিচের আটটি বিমের মধ্যে চারটিতে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ লেনের অংশটিতে যান চলাচল বন্ধ রাখায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তাই যানজট এড়াতে সেতুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই পথ পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নজরে আসার পর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে এক লেন বন্ধ করে (সাভার থেকে ঢাকাগামী) সংস্কারের কাজ শুরু করেছে ঢাকা সড়ক বিভাগ।

এক লেন দিয়ে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। এর আগে গত বুধবার রাতে সেতুর ফাটল ধরা পড়ার পর থেকে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সড়ক ব্যবহারকারী অসংখ্য মানুষ।

সওজ এর ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, সালেপুরে দুই লেনের দুটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে সড়কের পূর্বপাশের সেতুটির (সাভার থেকে ঢাকাগামী লেন) এক পাশের গার্ডারে (ভিম) ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সাথে সেতুটির এক পাশে অনেকখানি দেবেও গেছে।

যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি সাভার ও দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমরা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। কাজ শেষ হতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে ব্যস্ততম এই সেতুটির একটি লেন বন্ধ থাকায় মহাসড়কের তুরাগ এলাকা থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ।

ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মারুফ হাসান জানান, সেতুটির যেই অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে সেটি মূলত ৭০ এর দশকে নির্মিত, যখন এই মহাসড়কটি দুই লেনের ছিল।

অন্য অংশটি মহাসড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার পর নির্মাণ করা হয়েছিল। সাধারণত এজাতীয় কোন সেতু নির্মাণের পর তার আয়ুষ্কাল ৫০ বছর ধরা হয়। আমরা এমনিতেও সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তবে কিছু জটিলতার কারণে কাজটি এখনো শুরু করা যায়নি।

প্রাথমিকভাবে আমরা আমাদের প্রকৌশলী ও পরামর্শকদের নিয়ে সেতুটি পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ অংশের লেনটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করছি সংস্কারের মাধ্যমে অতি দ্রুত সেতুটির ওই লেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।

ঢাকা জেলা পুলিশের (উত্তর) পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. আব্দুস সালাম জানান, ফাটলটি সম্পর্কে আগেই জানতে পেরেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মূলত বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে সেতুটির একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

বাংলাদেশে জার্নাল/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত