ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৩৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪৭

প্রিন্ট

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় বীর প্রতীক ও গণপরিষদের সদস্য!

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় বীর প্রতীক ও গণপরিষদের সদস্য!
ফাইল ছবি

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণপরিষদের সদস্য প্রয়াত আবুল হোসেন। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। অপর একজন ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক। বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই তালিকায় ১৪০ ও ১৭৬ নম্বরে আছেন তারা।

সর্বজন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রয়াত এমপি আবুল হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হকের নাম মুক্তিযোদ্ধার সনদ পত্র যাচাই-বাছাই করা তালিকায় দেখে তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্য মুক্তিযোদ্ধারা হতাশার সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তালিকায় এভাবে নাম আসাটা তারা মেনে নিতে পারছেন না। যা তাদের জন্য খুবই অপমানজনক।

তবে লালমনিরহাটের মহান মুক্তিযুদ্ধের অপর অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের পরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, যে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ওই সময় গণপরিষদের যে সকল সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন তারা অটো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু আবুল হোসেন গণ পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন সেহেতু তিনি মুক্তিযোদ্ধা। ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় তাদের নাম আছে কি না তা দেখার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় কুড়িগ্রাম ট্রেজারি অফিসের মোটা অংকের একটি টাকা ভারত সরকারের কাছে জমা ছিলো। ওই টাকা প্রয়াত সংসদ সদস্য আবুল হোসেনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ব্যয় করেছেন ভারত সরকার। জানি না আমার নামও ওই তালিকায় আছে কি না।

জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘বেসামরিক গেজেটে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের নাম সংশোধন করে নতুন করে ৩৮ হাজার ৩৮৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হয়। যদিও গত ৯ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করে জামুকা।

জামুকার তালিকায় দেখা গেছে, ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় নাম আছে, এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে ওই যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায়। এমনই দুজন হলেন লালমনিরহাটের প্রয়াত সংসদ সদস্য আবুল হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক।

আবুল হোসেনের বড় ছেলে অ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার বলেন, সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল তাদের পিএইচডি প্রোগ্রামে মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত আবুল হোসেনের বীরত্বপূর্ণ অবদানের ওপর গবেষণা প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। বেরোবির অনুমোদনের ফলে মুক্তিযুদ্ধে বাবার অবদান নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গবেষণা করবে। অথচ এখন বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না তা আমাদের প্রমাণ করতে হবে। সন্তান হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।

তালিকায় নিজের নাম দেখে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমাকে আবারও প্রমাণ দিতে হবে আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি কি না। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের রিক্রুটিং কর্মকর্তা হিসেবে জামুকার বর্তমান সদস্য মোতাহার হোসেন এমপিকে আমি নিয়োগ দিই। ভারতের কুচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ ক্যাম্পের রিক্রুটিং বোর্ডে আমি ছাড়াও সেদিন মেজর নওয়াজেশ আলী খান, ডা. এম এম খান উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাই তালিকায় আমি থাকলে মোতাহারের নামও থাকা উচিত।

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আবুল হোসেনের প্রশিক্ষণে অনেক মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে, এখন তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে জামুকা। তারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা না করে শ্রদ্ধেয় ও স্বীকৃতদের নিয়ে টানাটানি করছে, যা খুবই অপমানজনক।

এ বিষয়ে জামুকার সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি মোতাহার হোসেন বলেন, আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরিতে কাজ করছে জামুকা। যাদের কাগজপত্রের কমতি রয়েছে, তাদের সবাইকে আগামী ৩০ জানুয়ারি ডাকা হবে। প্রয়াত আবুল হোসেন ও আজিজুল হকের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা ভাতা পাচ্ছেন, তাদের সবাইকে ডাকা হবে। এখানে কেউ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে, স্বাভাবিকভাবে তারা তো মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত