ঢাকা, শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:১৮

প্রিন্ট

গ্রেনেড হামলার আসামি ইকবাল ছাত্রদল করতো

২১ আগস্ট মঞ্চে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পলাতক আসামি ইকবাল হোসেনকে দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলো। পরবর্তীতে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী জঙ্গি ইকবাল হোসেনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি ইকবালের বাবা আব্দুল মজিদ মোল্লা। তার বাড়ি ঝিনাইদহে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি গ্রেনেড হামলার আসামি ইকবাল ছাত্রদলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিল, পরবর্তীতে সে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২১ আগস্ট ইকবাল নিজ হাতে মঞ্চের উদ্দেশ্য গ্ৰেনেড হামলা করেছিল। ২০০৩ সালে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে এসে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয়। মুফতি হান্নানের নির্দেশেই হামলায় অংশ নেয় সে। হামলার পর ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়। সম্প্রতি দেশে ফিরে ইকবাল নতুন করে আবার জঙ্গিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন শুরু করে।’

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল গ্রেনেড হামলার পর এনালগ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের জন্য একটি কলঙ্কিত ঘটনা। এই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে র‍্যাব বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয় রাউন্ড গুলি। শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পেছনে ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

হত্যা মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসির দণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ৩৮ জনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অন্য ধারায় ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত