ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৩৬

প্রিন্ট

বরের নিকাহনামায় দেনমোহর পরিশোধিত, কনেরটায় অপরিশোধিত!

বরের নিকাহনামায় দেনমোহর পরিশোধিত, কনেরটায় অপরিশোধিত!
প্রতীকী ছবি

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিদি

ঢাকার ধামরাইয়ে এক দম্পতির নিকাহনামায় দুই রকম তথ্য লিখে দুটি সত্যায়িত প্রতিলিপি সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে।

বরের নিকট সত্যায়িত প্রতিলিপিতে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ লেখা হয়েছে। আর কনের প্রতিলিপিতে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ লেখা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় বেশ জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন মিজানুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী।

এদিকে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন মিজানুর রহমান। অপরদিকে স্ত্রী দেনমোহর ও যৌতুক আইনে মামলা করেছেন আদালতে।

কাবিননামার প্রতিলিপিতে দেনমোহরের সঠিক তথ্য প্রদান না করায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান জানান।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদর থানার বিলকেস্টি গ্রামের রোজিনা আক্তারকে ২০১৭ সনের ১৬ জানুয়ারি বিয়ে করেন ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের মিজানুর রহমান। বিবাহের রেজিস্ট্রি করেন ধামরাই পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) মাওলানা আলিম উদ্দিন।

গত পাঁচ মাস আগে বিভিন্ন কারণে মিজানুর রহমান তার স্ত্রী রোজিনা আক্তারকে তালাক দেন। এ বিষয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নিকাহনামার সত্যায়িত প্রতিলিপি উত্তোলন করেন রোজিনা আক্তার। এতে এক লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ হয়েছে বলে লেখা নেই।

এরপর রোজিনা বাদী হয়ে মিজানুর রহমানের নামে ১৮ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে মামলা করেন।

এর আগে গত ২০১৭ সনের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নিকাহনামার সত্যায়িত প্রতিলিপি উত্তোলন করেন মিজানুর রহমান। এতে দেনমোহরের এক লাখ টাকা পুরোটাই পরিশোধ করা হয়েছে বলে লেখা আছে।

এছাড়া রোজিনার কাছে থাকা সত্যায়িত প্রতিলিপিতে বয়স ২২ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। আর মিজানুর রহমানের সত্যায়িত প্রতিলিপিতে রোজিনার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২০ বছর। দুজনের সত্যায়িত প্রতিলিপিতে দেনমোহর ও বয়সের গরমিল লিখে দেয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন মিজান ও রোজিনা।

এ ঘটনায় আলিম উদ্দিনের নামে গতকাল শনিবার ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কাজী মাওলানা আলিম উদ্দিন বাড়তি টাকার বিনিময়ে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ নেই মর্মে নিকাহনামার সত্যায়িত প্রতিলিপি দিয়েছেন রোজিনাকে। ফলে রোজিনা মামলা করার সুযোগ পেয়েছে।

এ বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা আলিম উদ্দিন বলেন, আমার ভুল হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার বলেন, বিষয়টা অনেক সেনসেটিভ। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ, বিভিন্ন অপকর্মের কারণে এর আগেও নিকাহ রেজিস্ট্রার আলিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছিল পুলিশের হাতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত