ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২১, ১২:৫৯

প্রিন্ট

প্রেমিকের দোকানে অনশনে প্রেমিকা, এলাকায় তোলপাড়

প্রেমিকের দোকানে অনশনে প্রেমিকা, এলাকায় তোলপাড়
ছবি- প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সবচেয়ে বড় ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত বড়বাজার এলাকার নেতা ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদের প্রার্থী (পরাজিত) মতিউর রহমানের ওয়ালটন শো-রুমে এসে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন করেছেন শিরীন আক্তার নামে এক প্রেমিকা।

শিরীন আক্তার একই উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের মৃত ওমর আলী মাস্টারের মেয়ে। প্রেমিক মতিউর রহমান একই এলাকার পুরানবাগ গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার সন্তান এবং তিন সন্তানের বাবা।

শুক্রবার (৫ মার্চ) বিকেলে হঠাৎ করেই দোকানে এসে হাজির হয় প্রেমিকা। এ সময় দোকানের সামনে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। অবস্থার বেগতিক দেখে স্থানীয়রা বানিয়াচং থানা পুলিশে খবর দেন।

পরে পরিস্থিতি সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু কথায় আছে প্রেমে যত বাঁধা আসে তাতে আরো জোড়ালো হয়। পরে উপায় না পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রেমিক-প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে যায় বেরসিক পুলিশ।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মতিউর ও শিরীন একই স্কুলে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। সেই সুবাদে স্কুল জীবনেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তারা। হঠাৎ করেই ভেঙ্গে যায় সেই সম্পর্ক। পরে প্রেমিক মতিউর অন্যত্র বিয়ে করেন। একইসঙ্গে ৩ সন্তানের বাবাও হন।

বেশ কিছুদিন আগে মতিউর আবার শিরীনের কাছে আসা-যাওয়া শুরু করে। শিরীনও সাবেক প্রেমিকের প্রলোভনে পরে যায়। এরপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। ধীরে ধীরে মতিউরের আচরণে সন্দেহ হয় শিরীনের।

এরই সুবাধে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) মতিউর রাতে আবারও যান শিরীনদের বাড়িতে। সেদিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মতিউরকে বিয়ের জন্য চাপ দেন শিরীন। কিন্তু মতিউর এতে রাজী না হয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শিরীন তাকে আটকে রাখেন। পরদিন সকালে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

এদিকে মতিউরের প্রথম স্ত্রী আইনের আশ্রয় নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমার স্বামীকে জোর করে আটকে বিয়ে দেয়া হয়েছে।

পরে মতিউর নিজ বাড়িতে ফিরেই শিরীনের সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

অন্যদিকে শিরীন কোনো উপায় না পেয়ে গত শুক্রবার মতিউরের দোকানে এসে স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করে। কিন্তু মতিউর বিয়ে করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর সেখানেই অনশন শুরু করে দেন শিরীন। বাজারের মধ্যে ঘটনাটি হওয়ায় খবরটি দ্রুততম সময়ে এলাকায় ছড়িয়ে পরে।

এ বিষয়ে বানিয়াচং বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, এফিডেভিডের মাধ্যমে শিরীনকে বিয়ে করে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেয়ায় মেয়েটি মতিউরের দোকানে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ দুজনকেই থানায় নিয়ে গেছেন।

রাত সাড়ে ১টায় বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, মতিউর ও শিরীন থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাদের সাথে আলোচনা চলছে। বর্তমানে সঠিক ভাবে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না, তবে কোনো ধরনের সমাধান করতে না পারলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত