ঢাকা, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৫১ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২১, ১৫:৪৩

প্রিন্ট

শরীরের থেকে মাথার ওজন দ্বিগুণ ছোট্ট শিশু আরিফার

শরীরের থেকে মাথার ওজন দ্বিগুণ ছোট্ট শিশু আরিফার
ছবি- প্রতিনিধি

উত্তম হাওলাদার, কলাপাড়া প্রতিনিধি

ছোট্ট শিশু আরিফা। বয়স মাত্র ৩ বছর। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতচাপলী ইউনিয়নের তাজেপাড়া গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক কাওছার মুসুল্লীর একমাত্র মেয়ে। জন্মের পরই তার বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু ছোট্ট এই মেয়েটির শরীরের থেকে মাথার ওজন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর মাথার ভার সইতে না পেরে এ শিশুটি প্রতিনিয়তই যন্ত্রণায় কাতর। ২৪ ঘণ্টাই বিছানায় শুইয়ে রাখতে হয় তাকে।

শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে শিশু আরিফার বাবা। তারপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। একমাত্র কন্যাশিশুর সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে মা-বাবা ব্যাকুল।

মেয়ের ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা তো দূরের কথা, পরিবারে ঠিকমতো দুবেলা খাবার জোটে না তাদের। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সাহায্যের আবেদন হতদরিদ্র অসহায় এই দম্পতির।

জানা গেছে, আরিফার জন্মের তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পরই শরীরের তুলনায় মাথা বড় হতে থাকে। হতদরিদ্র ভ্যানচালক বাবা কাওছার সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে ডাক্তার-কবিরাজ থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকৎসা করিয়েছেন। কিন্তু আরিফার মাথা স্বাভাবিক হচ্ছে না। ক্রমশই মাথা বড় হতে থাকে। বর্তমানে শিশুটির মাথার ওজন প্রায় ১০ কেজি। এ অবস্থা দেখে ব্যথিত প্রতিবেশীরাও।

আরিফার মা ডালিয়া বেগম বলেন, সংসারে এক ছেলে থাকার পর ২০১৮ সালে ১০ এপ্রিল জন্ম হয় আরিফার। বেশ কিছুদিন ভালোই ছিল। এরপর ধীরে ধীরে মাথা বড় হতে থাকে। সন্তানের কথা চিন্তা করে আরিফার বাবা নিজ বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে বরিশালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকৎসাও করিয়েছেন। তারপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। দিন যতই যাচ্ছে, ততই মাথার ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরিফার বাবা কাওছার মুসুল্লী বলেন, চিকিৎসায় যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন, তা জোগার করার আর কোনো উপায় নেই। ছিল নিজ বসতভিটা, মেয়ের চিকিৎসার করাতে গিয়ে ধারদেনা হয়ে তাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে।

মুসুল্লিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইউনুস বলেন, এখন শিশু আরিফার চিকিৎসা তো দূরের কথা, অর্থাভাবে পরিবারের ঠিকমতো দুবেলা খাবার জোটে না। একমাত্র কন্যার চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে বাবা-মা। তাই এই শিশুটির চিকিৎসায় সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসবে সমাজের বিত্তবানরা, এমন প্রত্যাশা করেছেন এই শিক্ষক।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জুনায়েদ খান লেলিন বলেন, শিশুটি হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত। রোগটি জটিল। অপারেশন করে তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত