ঢাকা, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২১, ২০:৫২

প্রিন্ট

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকে পেটানোর অভিযোগ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকে পেটানোর অভিযোগ
মারধরের শিকার স্থানীয় নেতা খিজির হায়াত খান। ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বসুরহাট পৌসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় এক নেতাকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ওই নেতার নাম খিজির হায়াত খান। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।

কাদের মির্জার ভাগনে ও খিজির হায়াত গ্রুপের অন্যতম নেতা ফখরুল ইসলাম এবং মারধরের শিকার খিজির হায়াত খান এ অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে কাদের মির্জার ভাগনে ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি মেয়র কাদের মির্জার অপরাজনীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন খিজির হায়াত খান। এ বিরোধের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটান কাদের মির্জা। খিজির হায়াত খান বর্তমানে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, কাদের মির্জা ও তার ছোট ভাই শাহাদাতের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা এই হামলা করে। ওই সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফরহাদ লিংকনকে আটক করে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এসময় কাদের মির্জা ও শাহাদাতের সন্ত্রাসী বাহিনী বাজারে অস্ত্রের মহড়া দেয়।

মারধরের শিকার খিজির হায়াত খান বলেন, বিকেল ৫টার দিকে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একা অবস্থান করছিলাম। ওই সময় মেয়র কাদের মির্জা অফিসে এসে প্রথমে কলার ধরে আমাকে লাঞ্ছিত করেন এবং পরে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা সমর্থকরা জামার কলার ধরে রাস্তায় নিয়ে আসেন এবং লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। আমাকে এমনভাবে পেটালেন যেন আমি একজন পকেটমার, চোর। এসময় আমি থানা পুলিশকে জানালেও তারা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।

এ ব্যাপারে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে অন্য এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে দাবি করেন, কাদের মির্জা কোনো হামলা করেননি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত কোনো কথাবার্তা ছাড়াই ৬০-৭০ জন দলীয় কর্মী নিয়ে কার্যালয়ের পাশের একটি কক্ষে গিয়ে বসেন। তখন খবর পেয়ে কাদের মির্জা, তার ভাই শাহাদাত ও ছেলে তাসিক মির্জা কয়েক’শ অনুসারী নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তারা এ সময় কক্ষ থেকে খিজির হায়াতকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন।

ওসি বলেন, তারা খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত সাতটা পর্যন্ত খিজির হায়াত-মিজানুর রহমানের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদের দিকে আর কাদের মির্জার অনুসারীরা পৌরসভা ভবন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত