ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:০৯

প্রিন্ট

সালথার ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১৩

সালথার ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১৩
ভাঙচুরের চিত্র। ছবি- প্রতিনিধি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জনকে।

এদিকে তাণ্ডবের ঘটনায় মিরান মোল্যা (৩৫) নামে আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের আব্দুর রব মোল্যার ছেলে। বুধবার দুপুরে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া। এর আগে এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। মোট দুই যুবকের মৃত্যু হলো এই সহিংসতায়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সালথা থানার ওসি আসিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের ক্বারী ইনছুর শেখের ছেলে নুরু শেখ (১৮), বিনোকদিয়া গ্রামের করিম কাজীর ছেলে সজিব কাজী (১৯), ইউসুফদিয়া গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে রাব্বি মাতুব্বর (১৯), মিনাজদিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে ইউনুস মাতুব্বর (৬০) ও গোপালিয়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আমির মোল্যা (৩০)।

এছাড়া ফুকরা গ্রামের গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আবুল কালাম শেখ (৩৫), রিপন শেখ (৩২), ইসরাইল মোল্যার ছেলে ইলিয়াস মোল্যা (২৭), চিলারকান্দা গ্রামের খালেক শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (৩২), পিসনাইল গ্রামের গ্রামের ঝিলু ফকিরের ছেলে রুবেল ফকির (২৫), সোনাপুর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও বিনোকদিয়া গ্রামের আয়ুব মোল্যার ছেলে সাইফুল ইসলামকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়। অপর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও থানা এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটি প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে, অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্যাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে ধংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার অবস্থা এখনো থমথমে। উপজেলা পরিষদজুড়ে এখন পড়ে আছে শুধুই ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। উপজেলা সদরের বাতাসে পোড়া গন্ধ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচ আর আসবাবপত্রের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টানা তিন ঘণ্টা তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার রাতের ঘটনা এখনও চোখে ভাসছে তাদের। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সালথা দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হলেও এমন ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি। এই ধরণের ভয়াবহ তাণ্ডব প্রথম দেখলো সালথাবাসী। এ কারণে সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে কয়েক ব্যক্তি বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও থানায় তাণ্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারীরা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটসাকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাসগান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত