ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৮:২৭

প্রিন্ট

কওমি মাদ্রাসা বন্ধ রাখতে হবে

কওমি মাদ্রাসা বন্ধ রাখতে হবে
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মন্ত্রীপরিষদে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে বন্ধ রাখা হয়। করোনাকালীন অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো কওমি মাদ্রাসা বন্ধ রাখতে হবে। যারাই নির্দেশনা না মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী নিজে ভ্যাকসিন নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে কওমি মাদ্রাসাগুলোর বিষয়ে মনিটরিং শুরু হবে। তবে এতিমদের জন্য শুধুমাত্র এতিমখানা খোলা রাখা হবে। এতিমখানার ছাত্র-ছাত্রীদের এইসব বিষয়ে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান নওফেল। কোমল মতি শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী।

কওমী মাদ্রাসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি জাতীয়ভাবে সম্মান দিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ এ মাস্টার্সের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যদি ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম হেফাজত চালিয়ে যায়, অপরাধমূলক কাজ করতে থাকে, তাহলে ডিগ্রির যে স্বীকৃতি সে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করে দেখতে হবে।

দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিচ্ছেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

হেফাজত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে যারা অরাজকতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হেফাজতের আক্রমণের শিকার হয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।

এছাড়া মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে নওফেল বলেন, কে কত বড় নেতা সেটা দেখার কোনো বিষয় নেই। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে, ভয়ে মামুনুল চট্টগ্রামে আসে নাই। এ ব্যক্তি চরিত্রহীন ব্যক্তি। মিনিটে একজনকে তার স্ত্রী বানায়, আবার কিছুক্ষণ পর আরেক জনকে তার স্ত্রী বলে। এই ধরনের অপকর্মে হেফাজতের নেতাকর্মীরা কিভাবে জড়িত থাকে তা জাতি জানতে চায়।

তিনি বলেন, যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আছে, সেগুলো সবাই পাবেন। গত বছর আতঙ্ক ও শঙ্কার কারণে অনেকে সেবা দেননি। এবার সেই অবস্থা নেই। এ বছর রোগী বাড়লে ও সমস্যা হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আখতার, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়াসহ প্রমুখ।

এর আগে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১০টি ও উপজেলার ১৫টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী নিজে ভ্যাকসিন নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান জানান, আজ থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, সিটি কর্পোরেশন হাসপাতালসহ নগরীর ১০টি কেন্দ্র, বিআইটিআইডি ও উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ১৩০ ডোজ টিকা মজুত আছে। এছাড়া শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ৩ লাখ ৬ হাজার ডোজ টিকা আসার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে করোনার টিকার প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৫ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ জন এবং উপজেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪০৯ জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত