ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৪১

প্রিন্ট

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে অসহায় বাবা

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে অসহায় বাবা
নিহত চম্পা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মেয়ে 'হত্যা'র ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি অসহায় বাবা। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নিহত চম্পার বাবা শেখ আলেক।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রামের কুব্বাত শেখের ছেলে মোস্তফার সাথে আড়াই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় চম্পার। তাদের দেড় বছরের একটি কন্যাশিশু রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-শশুর বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করেন। মেয়ের সংসার সুখের জন্য নিহতের বাবা আলেক বিয়ের সময় নগদ দুই লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দেয়। এরপরও স্বামীর অত্যাচার থেকে মেয়েকে সুখে রাখতে নিজের পালের দুটি ষাড় গরু মেয়ের জামাই মোস্তফাকে দিয়ে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, এতো কিছু দেয়ার পরও স্বামী মোস্তফা আরো পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে চম্পাকে অত্যাচার করতে থাকে। বাবার কাছ থেকে স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় চম্পা স্বামীর হাতে অত্যাচারিত হয়ে একাধিকবার বাবার বাড়ি চলে যায়। গ্রাম্যভাবে সালিশের মাধ্যমে পুনরায় চম্পার বাবা মেয়ের সুখের জন্য এক লক্ষ টাকা দিয়ে স্বামীর বাড়ি পাঠায় মেয়েকে। এরপর বেশ কিছুদিন চম্পার সংসারে সুখেই দিন কাটাতে থাকে।

এরপর মোস্তফার ব্যবসার জন্য শশুর, খালা শশুর ও খালা শাশুড়ি ফের চম্পার পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এরপর চম্পা তার বাবাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে টাকা দিতে বলে। চম্পা তার বাবাকে ফোনে বলেন, ‘টাকা না দিলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে।’ অসহায় বাবা আলেক টাকা দিতে না পারায় চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে স্বামী মোস্তফা চম্পাকে গলাচেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ।

এছাড়া ঘোড়ার গাড়ি করে বাবার বাড়িতে লাশ পাঠিয়ে দিয়ে ওইদিন পালিয়ে যান মোস্তফা। এরপর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য চম্পার লাশ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এলাকাবাসী জানান, চম্পাকে মৃত অবস্থায় ভোরে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী। চম্পা হত্যার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো মামলা নেয়নি হরিরামপুর থানা পুলিশ। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে হত্যাকারীরা।

চম্পার বাবা শেখ আলেক বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে পাশের পাটগ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে মোস্তফার সাথে পারিবারিকভাবে মেয়ে চম্পাকে বিয়ে দেই। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ দুই লক্ষ টাকা দেই। সাথে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেয়া হলেও মাঝেমধ্যে মেয়ের জামাই মোস্তফা আরো টাকার জন্য মেয়েকে চাপ সৃষ্টি করে মারপিট করতো।

‘হত্যা করার কয়েক দিন আগে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে আমার মেয়ে চম্পাকে চাপ দেয়। আমি টাকা না দিলে ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করবে বলে চম্পা আমাকে ফোন করে টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না পারায় ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করে আমার বাড়িতে দিয়ে যায়।’

চম্পার বাবা আরও বলেন, আমার মেয়ের লাশ ময়নাতদন্ত করার জন্য হরিরামপুর থানায় সকাল থেকে ফোন করতে থাকি। বিকেল তিনটার সময় এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় এসআই জালাল হোসেন। এরপর মেয়ে চম্পার লাশ দাফন শেষে আমি থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ আমার মামলা না নিয়ে আমাকে উল্টো হুমকি দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়।

‘এসআই জালাল আমাকে হুমকি দিয়ে বলে তুই যদি কোর্টে মামলা করিস তাহলে তোর মামলা আমি খেয়ে ফেলব। এরপর আমি বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৮ নং আদালতে মামলা করি। সিআর মামলা নং-১৮ (হরি) ২০২১। আদালত সংশ্লিষ্ট থানায় এই মর্মে কোনো মামলা রুজু হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আদেশ দেন।’

লেছড়াগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন ঈমাম (সোনা মিয়া) বলেন, হত্যা না আত্মহত্যা তা আমি জানি না। ঘটনার দিন চম্পার পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। সেদিন দুপুরে আমি ও ওসি সাহেব একটা প্রোগ্রামে ছিলাম। সেখান থেকে ওসিকে বলে লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছিলাম। আমি ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচারের দাবি করছি।

হরিরামপুর থানায় কর্মরত এসআই জালাল হোসেন বলেন, চম্পার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে যাই। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠাই। আমি শেখ আলেককে কোনরকমের হুমকি ধামকি দেইনি। বরং আমি আলেককে সান্তনা দিয়েছি।

অ্যাডভোকেট আজিজুল হক অপু বলেন, শেখ আলেকের বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেনাল কোড ৩০২/ ৫০৬ (।।)/ ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত হরিরামপুর থানায় এই মর্মে কোনো মামলা হয়েছে কিনা তার যাচাই বাছাইয়ের জন্য আদেশ দেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঈদ চৌধুরী বলেন, আমার কাছে কেউ হত্যা মামলা করার জন্য আসেনি। আদালত থেকে একটি আদেশ আসে। সেই আদেশ অনুযায়ী আদালতে একটি অপমৃত্যুর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত