ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০৮

প্রিন্ট

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বাধা প্রদানে মামলা

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বাধা প্রদানে মামলা
ফাইল ছবি।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম মিন্টু। এমন কাজে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের নামে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চাঁদাবাজির নামে করা এ মামলায় ছাত্রলীগের ৯ জন নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আমিনুল ইসলাম মিন্টু, মো. মানিক, মোনতাজ উদ্দিন (মোনতাজ মাস্টার) ও পান্নু মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে পাটুরিয়া ফেরিঘাট ফোরশোর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলো। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে ফেরিঘাটটি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে বালু ব্যবসায়ী মিন্টু।

এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার রাতে পাটুরিয়া ঘাটের ট্রাক টার্মিনালে ২০-২২ জনের একটি দল এনডিই কোম্পানির ম্যানাজার আইনাল হক, এমএম এন্টারপ্রাইজের ম্যানাজার আলমগীর হোসেন, কোম্পানির কর্মরত রাজিব, ভেকু ড্রাইভার মতিনসহ বেশ কয়েজনের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে চারপাশ ঘেরাও করে।

এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করে ভেকু ভাংচুর ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারা চিৎকার করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডবিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, এরকম কোনো ঘটনার কথা তারা শোনেননি।

পাটুরিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন জানান, তিনিও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবীর এ বিষয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মামলা রেকর্ড করেছি। ভাঙা ভেকু এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ আসামী গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে রাত ১১ টার দিকে ট্রাক টার্মিনালে দুটি ভেকু এলো কোথা থেকে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এ মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম মিন্টু নিজেকে এমএম এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটার দাবি করলেও আরিচা নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মাসুদ পারভেজ বাদী হয়ে ফেরিঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে করা মামলায় তাকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে। সেখানে তাকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী হিসেবে চিহিৃত করা হয়।

জানতে চাইলে আরিচা নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, আসামীরা পাটুরিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে ও হাইওয়াটার ফেরিঘাটের নীচ থেকে ৪-৫টি ভেকু দিয়ে ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে বালি-মাটি কেটে নিচ্ছেন। অপরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার দিয়ে বালি-মাটি উত্তোলন ও ভূমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার ফলে ইতিমধ্যে ফেরিঘাটটি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান জানু বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও সাজানো নাটক। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই এই মামলা করেছে।

প্রসঙ্গত, পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ফোরশোর এলাকা থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অপরাধে বৃহস্পতিবার ৬ জনকে আসামী করে শিবালয় থানায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবউটিএ) উপ-পরিচালক মো: মাসুদ পারভেজ বাদী হয়ে মামলা করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত