ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৪৭

প্রিন্ট

‘সরকার লকডাউন দিলে খাবার কেন দেবে না’

‘সরকার লকডাউন দিলে খাবার কেন দেবে না’
কাজের সন্ধ্যানে অপেক্ষারত শ্রমিকেরা

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

শনিবার সকাল ১০টা। দিনাজপুরের ষষ্ঠীতলায় শ্রমিকের বাজারমুখে দেখা মিললো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা এক নারী শ্রমিকের। চোখে পানি ছলছল করছে। এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন।

একটু এগিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই ওই নারী বললেন, আমার নাম রাবেয়া বেওয়া। স্বামী মারা গেছে। আমার একটা এতিম মেয়ে আর একটা মাসুম ছেলে আছে। তারা দুজনেই রোজা রাখে। গতকালকেও কিছু ইফতারি কিনে দিতে পারিনাই। আজ এখন পর্যন্ত কোনো কাজ জোগার করতে পারিনাই। ইফতারির সময় হলেই সন্তানদের দেখে দুই চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

রাবেয়া বেওয়া বলেন, সরকার কয়েকদিন ধরে লকডাউন দিয়ে রেখেছে, এখন আর কেউ কাজ দিতে চায় না। তাই এই রোজার মাসে এতিম ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে মহাবিপদে আছি। কথাগুলো বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন ষষ্ঠীতলা রেলঘুন্টি বস্তির রাবেয়া বেওয়া।

রাবেয়া বেওয়ার মতো শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক ষষ্ঠীতলার মোড়ে নতুন কোনো ভদ্রলোক দেখলেই এগিয়ে এসে বলেন, ‘কি কাজ করাবেন? কত টাকা হাজিরা দেবেন?’

সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের সময় কেউ শ্রমিকদের কাজে নেয়ার জন্য আসে না, তাই তারা কাজ পায় না। রাবেয়ার মতো সুফিয়া বেগম, কুলসুম বেগম, মনিরা বেওয়াসহ অনেকেই কাজের সন্ধানের জন্য বসে আছে।

কাজের সন্ধ্যানে অপেক্ষারত শ্রমিকেরা

জেলার বিরল উপজেলার তেঘড়া সোনারপাড়া থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে ষষ্ঠীতলায় কাজের সন্ধানে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনদিন লকডাউনের পর আজ কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কাজের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ দিতে আসেনি।

তিনি বলেন, লকডাউনের আগে এক পুলিশের বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছি। তিনদিন বসে থেকে সেই জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। তাই আর বাড়িতে বসে থাকতে পারলাম না। লকডাউনের মধ্যে পুলিশও কাজ বন্ধ রেখেছে। তাই আমাদেরও কাজ নাই।

নারী শ্রমিক সুফিয়া বেগম বলেন, লকডাউনের মধ্যে আমাদের কাজকর্ম বন্ধ থাকলেও আমাদের পেটতো বন্ধ নাই। সরকার যদি লকডাউন দিবে, আমাদের খাবার কেন সরকার দিবে না। আর যদি সরকার আমাদের মতো গরীব মানুষদের না দেখে, তাহলে গুলি মেরে ফেলুক। ক্ষুধার জ্বালা আর সহ্য হচ্ছে না। এদিকে কিস্তি ওয়ালারাতো বাড়িতে এসে সকাল থেকেই বসে থাকে।

রবিউল ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমাদের মতো শ্রমিকেরা দিন এনে দিন খায়। আজ চারদিন ধরে বসে আসি। জমানো যা ছিল, সব শেষ এখন। সকাল থেকে ভ্যান নিয়ে বসে আসি। একটা ভাড়া মারতে পারিনাই। কী করে চাল কিনব, অন্যদিকে এনজির কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে ৫শ' টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া অনেক শ্রমিক আছে, যাদের দৈনিক কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। না দিতে পারলে থালাবাটি বিক্রি করে হলেও প্রতিদিনের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।

দিনাজপুরের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, সরকার আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন, সেভাবেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। দেশের সাধারণ মানুষ যে করুণ অবস্থায় মধ্যে আছে, তা আমরা অবশ্যই রিপোর্ট করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত