ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৯

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত উভয় বেড়েছে

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত উভয় বেড়েছে
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু কমছে না। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরো ৮ জনের। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭২ জনে। গত ২০ দিনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। এছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩৪৭ জন। এতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৫৭৪ জনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে যদি সচেতনতা না বাড়ে, তাহলে সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুও লাগামহীনভাবে বাড়বে। এছাড়া অলিগলিতে আড্ডা ও মানুষের অযথা ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে হাট-বাজারে সবাইকে মাস্ক পরানো নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরলে ৯০ শতাংশ সংক্রমণ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে নগরের সাত ও উপজেলার একজন রয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে নগরের ২৬৩ আর উপজেলার ৮৪ জন রয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় মোট ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে লোহাগড়া ৪, সাতকানিয়া ৪, বাঁশখালী ২, চন্দনাইশ ২, পটিয়া ৯, বোয়ালখালী ৬, রাঙ্গুনিয়া ৭, রাউজান ১২, ফটিকছড়ি ১০, হাটহাজারী ২১, সীতাকুণ্ডে ৩, মিরসরাই ৩, সন্দ্বীপ ১ ও আনোয়ারায় এদিন কারো করোনা শনাক্ত হয়নি।

এদিন চট্টগ্রামের আটটি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে একটি মাত্র নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তা নেগেটিভ আসে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২৩২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৮ জন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৪২৩টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয় ৬১ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৩ জন ও বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবে ১৬৬ নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জন এবং শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২৬৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৬২ জনের নমুনায় ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয় এবং জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৫০ টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ৩১ জনের। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১৭১ নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

এদিকে, চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১০ দশমিক ৬১ শতাংশই হলো শিশু-কিশোর। যাদের বয়স শূন্য থেকে ২০ বছর। সর্বশেষ গত তিনদিনে ৯৬ জন শিশু কিশোর আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী আছে ২৪ জন। বাকি ৭২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছর।

সিভিল সার্জনের প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে জানা যায়, এ পর্যন্ত শুন্য থেকে ২০ বছর বয়সী শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৪৮৩ জন। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী আছে এক হাজার ১৯১ জন। যা মোট শনাক্তের দুই দশমিক ৫২ শতাংশ। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী আছে তিন হাজার ২৯২ জন। যা মোট শনাক্তের ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এদিকে গতকাল সোমবার ৩১ জন শিশু-কিশোর শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী আছে ১১ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী আছে ২০ জন। আগেরদিন রোববার ২১ জন শনাক্ত হয়। যাদের পাঁচজনের বয়স শূন্য থেকে ১০ বছর এবং ১৬ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। গত শনিবার ৪৪ জন শিশু-কিশোর শনাক্ত হয়। যাদের মধ্যে ৮ জনের বয়স শূন্য থেকে ১০ বছর এবং বাকি ৩৬ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছর।

চিকিৎসকরা বলছেন, বড়দের কারণেই ঝুঁকিতে আছে শিশু-কিশোরগণ। বড়দের মাধ্যমেই সংক্রমিত হচ্ছে তারা। কারণ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কম বয়সীরা ঘরের বাইরে তেমন যাচ্ছে না। বিপরীতে প্রয়োজন এবং বিনা প্রয়োজনেও বের হচ্ছেন বড়রা। ফলে অবচেতনে তারা সংক্রমিত হচ্ছেন। আবার উপসর্গ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ছোটদের সংস্পর্শ থেকে নিজেদের আলাদাও করে নেয় না বড়রা। এমনকি অনেক পরিবারে বড়দের উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ না আসা পর্যন্ত ছোটদের সংস্পর্শ ছাড়েন না। ফলে অজান্তেই বড়দের কাছ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে শিশু-কিশোরদের মাঝেও। তাই পরিবারের শিশুদের স্বার্থে বড়দের স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। শিশুদের যে কোনো উপসর্গ দেখা যাওয়া মাত্রই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত