ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২০:০০

প্রিন্ট

কমেছে সংক্রমণ, মৃত্যু অপরিবর্তিত

কমেছে সংক্রমণ, মৃত্যু অপরিবর্তিত
করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ, ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান কড়াকড়ি লকডাউনের সুফল আসছে। লকডাউনের কারণে করোনা ভাইরাসের শনাক্তের হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে মৃত্যু অপরিবর্তিত রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

গত এক সপ্তাহে করোনার শনাক্ত কমেছে ৯.২৯ শতাংশ। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে শনাক্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর হারও কমে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) করোনা শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এটি কমে সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ৬৩ শতাংশে। এর আগে গত শনিবার টেস্ট বিবেচনায় শনাক্ত হার ছিল ২১ দশমিক ৪৬, রোববার ১৯ দশমিক ৬, সোমবার ১৭ দশমিক ৬৮, মঙ্গলবার ১৬ দশমিক ৮৫ এবং বুধবার ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২২ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৭১২ জন। বুধবার নতুন ৪ হাজার ১৪ জনসহ এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ৭৮১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৯ জন। এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ১১২টি।

করোনায় আক্রান্তের চিত্রলেখ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৭ হাজার ৪২৯ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক শূন্য ৬৩ শতাংশ। আগের দিন বুধবার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৮ হাজার ৪০৮ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই ছয় হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। এরমধ্যে গত ৭ এপ্রিল সাত হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। যেটি এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। ওই দিন টেস্ট বিবেচনায় শনাক্ত হার ছিল ২২ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে ৭ এপ্রিল সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে কমেছে।

গত ৮ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিলেন ৬ হাজার ৮৫৪ জন। ৯ এপ্রিল শনাক্ত হন ৭ হাজার ৪৬২ জন। ১০ এপ্রিল শনাক্ত হন ৫ হাজার ৩৪৩ জন। ১১ এপ্রিল শনাক্ত হন ৫ হাজার ৮১৯ জন। ১২ এপ্রিল শনাক্ত হন ৭ হাজার ২০১ জন। ১৩ এপ্রিল শনাক্ত হন ৬ হাজার ২৮ জন।

এছাড়া গত ১৪ এপ্রিল পাঁচ হাজার ১৮৫ জন, ১৫ এপ্রিল চার হাজার ১৯২ জন, ১৬ এপ্রিল চার হাজার ৪১৭ জন, ১৭ এপ্রিল তিন হাজার ৪৭৩ জন, ১৮ এপ্রিল তিন হাজার ৬৯৮ জন, ১৯ এপ্রিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যুর দিন চার হাজার ২৭১ জন এবং ২০ এপ্রিল চার হাজার ৫৫৯ জন শনাক্ত হন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ওই বছরের ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যু হয়। একই বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে দৈনিক শনাক্ত সংক্রমণের হার কমতে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় এসে তা আবার বাড়তে থাকে। চলতি মানে শুরুতে এসে পরীক্ষা অনুযায়ী দৈনিক শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

করোনা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক লকডাউন। চলমান সর্বাত্মক লকডাউন বা ‘বিধিনিষেধ’ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে সরকার। শুধু লকডাউন হলেই হবে, বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে হলে সর্বস্তরে স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন

একদিনে আরো ৯৮ মৃত্যু

সর্বাত্মক লকডাউন: কেউ মানছে কেউ মানছে না

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত