প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৩৭
শিশু ধর্ষণ: নিখোঁজের ৪৭ দিন পর কঙ্কাল মিললো আসামির
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ছোট মিয়া (৬২) নামে শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় দেড় মাস পর তিতাস উপজেলার নির্জন এলাকা থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
|আরো খবর
শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে তিতাসের কলাকান্দি ইউনিয়নের দড়ি মাছিমপুর গ্রাম সংলগ্ন সরিষাবাগ থেকে ছোট মিয়ার কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, তিতাস উপজেলার গাছগাছালি ও ঝোপঝারে ভরপুর দড়ি মাছিমপুর গ্রাম সংলগ্ন সরিষাবাগে তেমন লোকজন আসা-যাওয়া না থাকলেও শনিবার স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ফসলি জমিতে কাজ করতে যাওয়ার পথে জমির এক পাশে ওই কঙ্কালটি দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে তিতাস থানার ওসি সৈয়দ আহসানুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস, এসআই মধুসুদন সরকার, কলাকান্দির চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় ছোট মিয়ার মাথার খুলি, বুকের হাড়, হাত ও পায়ের হাড়গুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধারকৃত কঙ্কালের সাথে একটি পাঞ্জাবি, পাঞ্জাবির পকেটে টুপি, মাস্ক, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ নিরাময়ের ইনহেলারসহ কিছু ওষুধ ও একটি বন্ধ মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
সংবাদ পেয়ে উক্ত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ ও মৃত ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটনে তিতাস থানা পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডি ও পিবিআই’র দু’টি দল। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটন করা হয়।
তিতাস থানার ওসি সৈয়দ আহসানুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইলফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার আত্মীয়-স্বজনকে থানায় ডেকে এনেছি। তারা ওই মোবাইল সেট ও সেটে থাকা নম্বরগুলো শনাক্ত করেছেন। পরিবারের সদস্যদের থেকে ডিএন'র আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশের আলামতসহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিতাস থানার ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, দেবীদ্বার থানার একটি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার স্থানীয় কৃষকরা ধান ক্ষেতের পাশে একটি কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। বিষয়টি তদন্তাধীন। হত্যা না আত্মহত্যা এ বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি (আলীয়াবাদ) গ্রামের একটি মুদি দোকানে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনায় ভিক্টিমের মা ছোট মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদীর অভিযোগ, ৬ মার্চ রাতে আমার মেয়ে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে আমি গ্রাম্য ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার দেখানোর পর আমার মেয়ে কিছুটা সুস্থ হলে সে আমাদের জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় ছোট মিয়া কৌশলে দোকানঘরে নিয়া আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ছোট মিয়া (৬২) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি (আলিয়াবাদ) গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে।
গত ৭ মার্চ তাকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়েরের পর ঘটনা জানাজানি হয়। এরপর ৮ মার্চ থেকে ছোট মিয়া নিখোঁজ হন। পরে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন আর খোঁজ পায়নি তার।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে











