ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ২০:১৩

প্রিন্ট

‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ প্রকল্পের ধান কাটা উদ্বোধন

‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ প্রকল্পের ধান কাটা উদ্বোধন
ছবি- প্রতিনিধি

বগুড়া প্রতিনিধি

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেয়া বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা এলাকার ৪০ একর (১২০ বিঘা) কৃষিজমিতে গাঢ় বেগুনি ও সবুজ ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রকল্পের কৃষক বেশে কাস্তে হাতে কোমরে গামছা বেঁধে ধান কাটার উদ্বোধন করলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম কৃষকের বেশ ধরে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই ধান কাটার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ধান কাটা উৎসবে মেতেছেন স্থানীরা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ নামে বিশাল আয়তনের এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। এটি গত ১৬ মার্চ বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র হিসেবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। যার মাধ্যমে বাঙালি জাতির নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু ধান কাটা উৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, মহামারী নভেল করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। তেমনিভাবে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীকে রুখতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে বাংলার মাটিতে স্থান দেয়া হবে না।

আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে নানামমুখি কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষকের বন্ধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ বির্নিমাণে কাজ করে গেছেন। তাই তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফসলি মাঠে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু' প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ প্রকল্পের ধান কাটা হবে সোমবার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কলুষিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে তাদের সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হলেও মসজিদ ও মাদ্রাসাকে কলুষিত করেছে। হেফাজতে ইসলাম নামের ওই মৌলবাদী গোষ্ঠী এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, জামায়াত-হেফাজতকে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্তে লিপ্ত রয়েছে বিএনপি। সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাই পাগলের প্রলাপ বকছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তার মিথ্যাচারে কান দেয় না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গ্রহ, সহ-সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া অন্যদের বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

আয়োজকরা জানান, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামের দিগন্ত বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের একশ' বিশ বিঘা জমিতে গাঢ় বেগুনি ও সবুজ ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। যার নাম দেওয়া হয় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে গত ২৯ জানুয়ারি উচ্চ ফলনশীল দুই ধরণের ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে এই চিত্রকর্মটির শুভসূচনা করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘শস্যচিত্র’ হিসেবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত রেকর্ড গড়ে।

এই প্রকল্পের ১২০ বিঘা জমির এই ধান কাটার পর সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়া হবে। তবে এর কিছু অংশ স্থানীয় কৃষক এবং এই প্রকল্প কাজের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও দেয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতির আয়তন ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। দৈর্ঘ্য ৪শ’ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৩শ’ মিটার। সর্বশেষ ২০১৯ সালে চীনে তৈরি শস্যচিত্রটির আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি তৈরি করার জন্য দুই প্রজাতির ধান বেছে নেয়া হয়। গাঢ় বেগুনি ও সোনালী রঙ। চীন থেকে এসব ধানের জাত আমদানি করা হয়েছে। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যদের নিয়ে লে-আউট তৈর করা হয়। পরে চারা লাগানোর জন্য নির্ধারিত মাঠ প্রস্তুত করা হয়। এই কাজে একশ’ বিএনসিসি সদস্যের দল অংশ নেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত