ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২১, ১১:৪১

প্রিন্ট

সম্পত্তি রক্ষায় দুই সন্তানসহ সড়কের পাশে অবস্থান

সম্পত্তি রক্ষায় দুই সন্তানসহ সড়কের পাশে অবস্থান
বরিশালে সম্পত্তি রক্ষায় দুই সন্তানসহ সড়কের পাশে অবস্থান।

বরিশাল প্রতিনিধি

‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে’ বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রেকর্ডীয় সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তন ও পুকুর ভরাট বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সংবাদ কর্মী কল্যাণ চন্দ্র দে তার দুই শিশু সন্তানসহ বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে ৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন। প্রশাসনের নজরে আসতেই তিনি এ পথ বেছে নেন।

উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা কল্যাণ চন্দ্র দে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। এ সময় তার সাথে ছিলো দুই সন্তান উজিরপুর শেরেবাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা রানী চন্দ্র এবং ছেলে উজিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র অংকুশ চন্দ্র দে।

কল্যাণ চন্দ্র বলেন, উজিরপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় তার দাদা প্রমথ নাথ চন্দ্রের এসএ রেকর্ডীয় ১ একর ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ওই জমির খাজনা পরিশোধ করেন তার বাবা দেবতোষ চন্দ্র দে। কিন্তু ওই জমি ভিপি সম্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মাস্টার, মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী হাওলাদার, সাবেক কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম খান ও জাতীয় পার্টির নেতা মুজিবুর রহমান খানসহ ১০ ব্যক্তি গোপনে ডিসিআর কেটে ওই জমি ভোগ দখলের পায়তারা করেন।

কিন্তু তাদের বাঁধার মুখে প্রতিপক্ষ জমি দখলে নিতে পারেনি। ২০১২ সালে সরকার অর্পিত সম্পত্তির যে গেজেট প্রকাশ করে সেখানে এই জমি ‘ক’ গেজেটভূক্ত হয়। পরে কল্যাণ চন্দ্রের পরিবার ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে’ ওই জমি অবমুক্ত করার মামলা করে। এই মামলা এখনো ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই অবস্থায় সোমবার সকাল থেকে ডিসিআর মুলে বালু ভরাট শুরু করে প্রতিপক্ষের লোকজন। প্রাথমিক বাঁধায় তারা দখল ও বালু ভরাট বন্ধ না করায় প্রশাসনের নজরে আনার জন্য বাধ্য হয়েই দুই সন্তান নিয়ে ব্যানার সাটিয়ে টাউন হলের সামনে অবস্থান করেন।

বিকেল ৫টার পর দুই শিশু সন্তান নিয়ে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সাথে দেখা করে পুরো ঘটনা অবহিত করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় ওই জমি দখল কিংবা বালু ভরাট কাজ বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস বলেন, দুই শিশু সন্তানসহ কল্যাণ চন্দ্রের অবস্থানের বিষয়ে অবগত হয়েছেন জেলা প্রশাসক। তার নির্দেশে বিকেলে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে’ বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমি দখল কিংবা বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত