ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২১, ১৩:০৫

প্রিন্ট

নামের মিলে বিনা দোষে দেড় বছর কারাবাস

নামের মিলে বিনা দোষে দেড় বছর কারাবাস
হাসিনা বেগম। ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

অপরাধীর তালিকায় নেই কোনো নাম। অতীতে অপরাধের সঙ্গেও ছিলো না কোনো সম্পৃক্ততা। তবুও খাটছেন জেল। অপরাধ একটাই, সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের প্রথম অংশ ও স্বামীর নামের একাংশের সঙ্গে মিল। তবে অপরাধীর নামের সঙ্গে মিল থাকলেও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে রয়েছে অমিল। কিন্তু মূল আসামির জায়গায় প্রায় দেড় বছর ধরে সাজা খাটছেন কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা হাসিনা বেগম।

এভাবে নামের অদল-বদলে সাজা খাটার বিষয়টি সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত ৫ম আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, মামলাটি মহানগর অতিরিক্ত ৫ম আদালতের কিন্তু মঙ্গলবারে ওই কোর্ট না থাকায় ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এটার শুনানি হয়েছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে দেড় বছর ধরে সাজা খাটা হাসিনা বেগম প্রকৃত আসামি কি’না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

জানা যায়, মূল আসামি নাম হাসিনা আক্তার (২৬)। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ায়। ওই এলাকার ইসমাইল হাজি বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী তিনি। অন্যদিকে নামের ‘আংশিক মিলে’ফেঁসে যাওয়া হাসিনা বেগমের (৪০) বাড়িও একই এলাকার হোসেন বর বাড়ি। তিনি হামিদ হোসেনের স্ত্রী। তবে অপরাধীর নামের সঙ্গে মিল থাকলেও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে অমিল রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ২৮(২)১৭, জি.আর মামলা নম্বর ৫৭/১৭ ও পরবর্তীতে দায়রা মামলা ৩৬৩৭/১২ দায়ের হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তার ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কারাগারে যান। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে একই বছর ২৭ নভেম্বর জামিনে গিয়ে পলাতক হন। ২০১৯ সালের ১ জুলাই পলাতক থাকা আসামিদের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর ৫ম আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী রায়ে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

পরবর্তীতে টেকনাফ থানা পুলিশ ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর টেকনাফের চৌধুরী পাড়ার হোসন বর বাড়ি থেকে নামের সাথে সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের একাংশের মিল থাকায় হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলায় এরপর থেকে জেল খাটছেন হাসিনা। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত টেকনাফ থানাতে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের চাহিত সেই অনুসন্ধান প্রতিবেদন ২মে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আদালতে হাসিনা বেগমের প্রতিবেদন দেয়া টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোরশেদ আলম জানান, বর্তমানে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে থাকা হাসিনা বেগম পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া হাসিনা আক্তার এক নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান কারাগারে থাকা হাসিনা বেগমের স্বামী পালাতক থাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা যায়নি।

হাসিনা বেগমের ছেলে শামীম নেওয়াজ (১৪) বলেন, আমার মাকে থানায় একটি সাইন দিতে হবে বলে পুলিশ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমার মাকে ইয়াবার মামলায় জেলে দেয়া হয়। আমার মায়ের নামে কখনো কোনো মামলা বা জিডি ছিলো না, কখনো কক্সবাজার শহরেও যায়নি। সে সময় আমার বোন রোকেয়ার বয়স ছিল দেড় বছর। আমার মা জেলে যাওয়ার পর আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন কোথায় আছে জানি না।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, প্রকৃত আসামি হাসিনা আক্তার মামলার সাজা হওয়ার আগে ২০১৭ থেকে প্রায় ৯ মাস কারাগারে ছিলেন। সাজা হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে হাসিনা বেগম কারাগারে আসেন। কারা রেজিস্ট্রারে থাকা দুজনের ছবির মিল নেই। মূল আসামি হাসিনা আক্তারের ছোট একটা ছেলে ও একটা মেয়ে ছিল কারাগারে থাকার সময়।

এ বিষয়ে এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করার আগে অবশ্যই নাম ঠিকানাসহ শতভাগ নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করবেন। যা আইনে এবং পুলিশ প্রবিধানেও সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। নিরীহ হাসিনা বেগমের গ্রেপ্তার হওয়া ওয়ারেন্ট তামিলকারী পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতি। এ ব্যাপারে পুলিশ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়া আদালতও এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত