ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২১, ১৭:৫৮

প্রিন্ট

এনজিও’র টাকা দিতে গিয়ে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা!

এনজিও’র টাকা দিতে গিয়ে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা!
ছবি- প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে সৃজনী নামে একটি এনজিও’র চাপিয়ে দেয়া পাওনা টাকা দিতে গিয়ে মানসিক নির্যাতনের শিকার আব্দুস সাত্তার গাজী (৩৫) নামে এক যুবক অফিসের মধ্যেই বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা নিয়ে শহরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সৃজনীর পক্ষ থেকে নানা কল্পকাহিনী প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

বিষপান করা আব্দুস সাত্তার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকার নুরনিয়া গ্রামের রওশন আলী গাজীর ছেলে। তিনি চট্রগ্রামের লোহাগড়া থানায় এনজিও সৃজনীর সোলার বিভাগের কর্মী ছিলেন। সোমবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী পাড়ার সৃজনী হেড অফিসে এই বিষপানের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আব্দুস সাত্তারের ভাষ্যমতে, ২০১৮ সালে ঋণের পাশ বহিতে কিস্তির আপডাউন ও অডিটের অনিয়মের টাকা নিয়ে অফিস তার ওপর টর্চারিং করে। ফলে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। চাকরি ছাড়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের পাওনা সবকিছু বুঝিয়ে দেন। এমনকি টেবিল চেয়ার বিক্রির টাকাও সৃজনীর হেড অফিসে জমা দেন। কিন্তু তাকে কোনো রশিদ দেয়া হয় না।

এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ লাখ টাকার চেকের মামলা করে সৃজনী। ওই ব্লাঙ্ক চেকটি চাকরি নেয়ার সময় সৃজনী অফিসে জমা দেয়া ছিল।

আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন, তার কাছে কোনো পাওয়ানা ছিল না। আদালতে মামলা হওয়ায় তিনি ধারদেনা করে এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ঘটনার দিন সোমবার তিনি আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। সঙ্গে একটি কোরআন শরীফ ও বিষের বোতল। সত্য প্রতিষ্ঠায় তিনি এনজিও কর্মকর্তাদের কোরআন হাতে শপথ করার কথা বলামাত্রই তার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। বকাবকি করে। নানা কটু বাক্যবাণে মানসিক যন্ত্রণায় আহত হন আব্দুস সাত্তার।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে তিনি সৃজনী’র কর্মকর্তা দারজুল ইসলাম ও ওয়াহিদুজ্জামানের সামনেই সঙ্গে আনা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। জনৈক নাজমুল ইসলাম মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুস সাত্তারকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সাত্তারের স্ত্রী হোসনে আরা অভিযোগ করেন, ৫ মাস আগে ব্লাঙ্ক চেক ফেরৎ নিতে আমরা এক লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। কিন্তু তারা সাড়ে ৩ লাখ টাকার দাবিতে অটল থেকে চেক ফেরৎ দেয়নি। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করে ব্লাঙ্ক চেক ফেরৎ চান।

বিষয়টি নিয়ে সৃজনীর সহকারী পরিচালক দারজুল ইসলাম বলেন, লোহাগড়া শাখায় চাকরি করার সময় বেশকিছু সোলারের মালামাল নষ্ট করে ফেলেন আব্দুস সাত্তার। স্টোর থেকে মালামাল হারিয়েও ফেলেন। গ্রাহকের টাকা তুলে জমা দেয় না। এ কারণে অডিট রিপোর্ট মোতাবেক সাড়ে ৩ লাখ টাকা আব্দুস সাত্তারের কাছে পাওয়ানা হয়। এটা সে মেনে নিয়েই এক লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেন। এরপর টাকা দিতে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

দারজুল ইসলাম আরও বলেন, সোমবার সকালে আব্দুস সাত্তার ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে আসেন। আমরা বলি, আর কিছু টাকা দিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে যান। এ ঘটনার পর তিনি অফিস থেকে চলে যান। তারপর তিনি আবার ফিরে আসেন। কিন্তু তার অবস্থা ভালো না হওয়ায় আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি। আব্দুস সাত্তার সৃজনী অফিসে বিষপান করেননি বলে সহকারী পরিচালক দারজুল ইসলাম দাবি করেন।

ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, এনজিওতে চাকরি নেয়ার সময় ব্লাঙ্ক চেক রেখে দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। কোনো এনজিও যদি এটা করে থাকে, তবে চরম অন্যায় ও আইন ভঙ্গের কাজ করেছে তারা। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই এমদাদ হোসেন হাসপাতালে আব্দুস সাত্তার গাজীর বক্তব্য রেকর্ড করেন। এ সময় তিনি সাংকবাদিকদের জানান, অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত