ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২১, ১০:০২

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে করোনায় আরো ৫ মৃত্যু

চট্টগ্রামে করোনায় আরো ৫ মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে নগরে ৪ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ১ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন মোট ৫৪৫ জন। এরমধ্যে ৪০৪ জন নগরের ও ১৪১ জন উপজেলার বাসিন্দা।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৪২ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১১৩ জন নগরের ও ২৯ জন উপজেলার বাসিন্দা।

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত শনাক্ত ৫০ হাজার ৬২০ জনের মধ্যে ৪০ হাজার ৫৪৯ জন নগরের ও ১০ হাজার ৭১ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা।

বুধবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরো জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৭ জনের ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ২৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের করোনা পাওয়া গেছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রামের ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও করোনা মিলেনি।

ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের, শেভরণে ২৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের ও আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আরটিআরএলে ৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের ও মেডিকেল সেন্টারে ১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫ জনের করোনা ধরা পড়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে ফুরিয়ে আসছে করোনা টিকার মজুদ। নগরসহ জেলায় বর্তমানে মজুদ টিকার ডোজের সংখ্যা অর্ধ লাখেরও কম (৪৫ হাজারের সামান্য বেশি)। প্রথম ডোজ বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে জেলায় (নগরসহ) ৭ হাজারের বেশি মানুষ টিকা নিচ্ছেন প্রতিদিন। সে হিসেবে মজুদ অর্ধ লাখের কম ডোজ টিকা দিয়ে বড় জোর এক সপ্তাহ মতো টিকাদান কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।

চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া গতকাল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত- নগরে আরো ২১ হাজার ৮৯০ ডোজ টিকা মজুদ রয়েছে। আর গতকাল একদিনে শুধু মহানগরে টিকা নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। সে হিসেবে মজুদ ২১ হাজার টিকায় ৫ কর্মদিবসের বেশি চালানো নিয়ে সংশয়ের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- দৈনিক ৪ হাজার মানুষ টিকা নিলেও ২১ হাজার টিকা ৫ কর্মদিবসের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে ২৩ হাজারের সামান্য বেশি ডোজ টিকা মজুদ রয়েছে। আর দিনে আড়াই থেকে ৩ হাজার মানুষ টিকা নিচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ে। সে হিসেবে মজুদ টিকায় উপজেলাগুলোতে এক সপ্তাহের বেশি টিকাদান কার্যক্রম চালানো যাবে বলে মনে করেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। ঈদের আগ পর্যন্ত মোটামুটি সমস্যা হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৪৮ হাজার ৯০০ ভায়াল এবং দ্বিতীয় দফায় ৩০ হাজার ৬৫০ ভায়ালসহ সবমিলিয়ে ৭৯ হাজার ৫৫০ ভায়াল টিকা পায় চট্টগ্রাম জেলা (নগরসহ)। প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ হিসেবে প্রাপ্ত টিকার মোট ডোজ সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ ডোজ। এর মধ্যে নগরসহ পুরো জেলায় ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ লাখ ডোজ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে আর ৪৫ হাজারের সামান্য বেশি ডোজ টিকা এখন অবশিষ্ট রয়েছে।

মহানগরসহ পুরো জেলায় সাড়ে চার লাখের বেশি (৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬০ জন) মানুষ প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর প্রথম ডোজগ্রহীতাদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজারের সামান্য বেশি। সবমিলিয়ে ১ম ও ২য় ডোজসহ এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখ ডোজ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত