ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২১, ০৬:৪৫

প্রিন্ট

কারখানার বিষাক্ত পানি পানে ৮টি মহিষের মৃত্যু

কারখানার বিষাক্ত পানি পানে ৮টি মহিষের মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

অন্যান্য দিনের মতোই মাঠে চষে বেড়াচ্ছিল এক পাল মহিষ। এক ফাঁকে জলাশয়ের পানিতে চুমুক দেয় মহিষগুলো। তবে সে পানি ছিল বিষাক্ত, সিইউএফএল কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত। প্রতিক্রিয়া হয় দ্রুত। অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে মহিষগুলো। একপর্যায়ে মৃত্যু হয়, অবুঝ প্রাণিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে মাঠের বিভিন্ন স্থানে। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে সিইউএফএলের পাশ্ববর্তী গোবাদিয়া খাল ও আশেপাশের এলাকায় এসব মহিষ মারা যায়। এদিন সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যমিশ্রিত পানি পান করে বেশ কয়েকটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, কারখানার পাশের জলাশয়ের পানিতে দূষিত রাসায়নিক বর্জ্য ছাড়া হলে পানিগুলো বিষাক্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে মহিষগুলো জলাশয়ের পানি পানের পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। মাঠেই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে ওঠে বেশ কয়েকটি মহিষ। এছাড়াও আরও কিছু গবাদি পশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ বলেন, সিইউএফএল কারখানা থেকে নির্গত দূষিত পানি পান করে এ পর্যন্ত স্থানীয়দের ১২টি মহিষ মারা গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। এর আগেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এক বছর আগে তিনটি ও ছয় মাস আগে আরও একটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক সময়ে বিষাক্ত পানি ছাড়ার দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন স্থানীয়দের কোনো প্রকার অবগত না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।

আগামীতে এসব বিষাক্ত পানি নিষ্কাশনের আগে এলাকায় মাইকিং করার প্রতিশ্রুতি ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবারও ওই এলাকার ৮টি মহিষ মারা গেছে। এছাড়া একটি মহিষ অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়।

এদিকে, বিষাক্ত শিল্পবর্জ্যে দূষিত নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের সবজি ও ধানের চারা। এই এলাকায় সেচের জন্য পানির সঙ্কট দেখা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে জানতে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, সিইউএফএলের বিরুদ্ধে এরকম আরও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত