ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ১১ মে ২০২১, ১১:৫৮

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে কমেছে মৃত্যু ও শনাক্ত

চট্টগ্রামে কমেছে মৃত্যু ও শনাক্ত
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যা বিগত কয়েকদিনের তুলনায় কম। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৬৮ জনের; এর মধ্যে ৪২১ জন নগরের ও ১৪৭ জন উপজেলার বাসিন্দা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

এছাড়া চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১০৬ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৭৪ জন নগরের ও ৩২ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৫১ হাজার ৩৯০ জনের মধ্যে ৪১ হাজার ১২৩ জন নগরের ও ১০ হাজার ২৬৭ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা।

এদিকে গত ১০ দিনে চট্টগ্রামে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার মধ্যে হাটহাজারী আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের।

প্রতিবেদনে জানা যায়, গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৯ জনের ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ২৮১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের ও সিভাসুতে ১৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের করোনা পাওয়া গেছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রামের ৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও করোনা মিলেনি।

ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ৬৭ জনের নমুনার মধ্যে ১৩ জনের, শেভরণে ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের ও আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের করোনা ধরা পড়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে দিনপ্রতি শনাক্তের সংখ্যা নেমে এসেছে দুইশ জনের নিচে। তবে প্রতিদিন করোনা রোগীর মৃত্যু হচ্ছে চট্টগ্রামে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৫৬৮ জন। নগরে সর্বোচ্চ ৪৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে হালিশহরে। উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে হাটহাজারী উপজেলায়। চট্টগ্রামে মারা যাওয়া ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৬০ বছরের বেশি। এই বয়সী রোগীরা কোভিড ছাড়াও ডায়াবেটিস, কিডনি ও হাইপ্রেসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত থাকে। ফলে এদের অধিকাংশই মারা যায়।

জানা যায়, এপ্রিল মাসে ১৩৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। দৈনিক গড় মৃত্যুহার ৪ দশমিক ৫০ জন। গত বছরের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর এক বছরের মধ্যে গত মাসেই সবচেয়ে বেশি করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয় ২৪ এপ্রিল। এদিন ১৭১ জন আক্রান্ত ধরা পড়ে, সংক্রমণ হার ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয় ১০ এপ্রিল। এদিন ২২৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন, সংক্রমণ হার ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। ৩০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ দিন ২, ১৪ ও ২৫ এপ্রিল ছিল মৃত্যুহীন দিন।

এপ্রিল মাসে ৯ হাজার ৮০৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। দৈনিক গড় ৩২৬ দশমিক ৯০ জন। এর মধ্যে করোনাকালের সর্বোচ্চ ৫৪১ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন ১১ এপ্রিল। সংক্রমণ হার ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এদিন ৭ রোগীরও মৃত্যু হয়। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫’শ অতিক্রম করেছিল আরো একদিন। ৯ এপ্রিল ৫২৩ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণ হার ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সংক্রমণের সর্বোচ্চ হার ওঠেছিল ১৬ এপ্রিল, ২৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে সর্বনিম্ন সংক্রমণ ঘটে ২৪ এপ্রিল, ১৭১ জন। সংক্রমণে মাসের সর্বনিম্ন হার ৩০ এপ্রিল, ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এপ্রিলে সংক্রমণ হারের দৈনিক গড় ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের এ সময়ে সারাদেশেই রোগী বেড়েছে। তবে স্বাভাবিক ধারার পাশাপাশি চট্টগ্রামে বৃদ্ধির আরো কিছু কারণ রয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে, বিয়েসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অত্যধিক লোকের উপস্থিতি। গত জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিযোগিতা দিয়ে এসব অনুষ্ঠান হয়েছে। অধিকাংশ আয়োজকই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ধার ধারেননি। ফলে সংক্রমণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ভাইরাসটি বেশি ঘরে নিয়ে যাচ্ছে তরুণরা। তারা বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে বাসায় ফেরে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সংক্রমিত থাকে। পরবর্তীতে তাদের থেকে বাড়ির বয়স্করা সংক্রমিত হয়। তাই বয়স্কদের বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত